দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নে ব্যবসায়ী আব্দুর রবের রহস্যময় মৃত্যুর খবর এলাকাজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার কয়েক মাস পার হলেও এখনো কোনো স্পষ্ট তদন্ত ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় এলাকাতে নানা ধরনের আলোচনা, সমালোচনার পাশাপাশি নানা প্রশ্ন উঠছে। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্যউন্মোচনে এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রথমে স্থানীয়রা ভেবেছিল, এস এম আব্দুর রব (৪৫), যিনি কেবলঘাট এলাকার মৃত শওকত আলীর বড় ছেলে, তিনি গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, এটি সম্ভবত আত্মহত্যা। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এই মৃত্যুটি রহস্যজনক বলে দাবি করা হচ্ছে এবং তাঁরা সন্দেহ করছেন এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
তার পরিবারের অভিযোগ, মৃতের দ্বিতীয় স্ত্রী সুলতানা খাতুন শামীমা (৩০) এই মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারেন। এ সম্পর্কিত একটি মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে নিহতের স্ত্রী, শ্বশুর কওছার খাঁন এবং শাশুড়ি মনিরা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। তবে এই মামলার এখনো কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বেড়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী অন্যত্র পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ফেলায় তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ের মাধ্যমে তার একমাত্র সন্তান মো. মোস্তফাকে লালনপালনের জন্য নতুন সংসার শুরু করেন। ২০২১ সালের ৪ মার্চ, তিনি লাখোহাটি খানাবাড়ি গ্রামের কওসার খানের বিধবা কন্যা সুলতানা খাতুন শামীমার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
এলাকাবাসীর মতে, আব্দুর রব ছিলেন একজন শান্ত-শিষ্ট এবং সুবhlahমান ব্যবসায়ী; তার অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি, অনেকেরই মনে সন্দেহ জেগেছে যে, এই মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।
আব্দুর রবের মা ঝরনা বেগম বলেন, মৃত্যু পর্যায়ের আগে তার ছেলে দোকান থেকে শ্বশুরের নামে একটি অজানা ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে গিয়েছিল। এরপরের দিন তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হলো।
আব্দুর রবের ভাই আব্দুল হক বলেন, বড় ভাইয়ের বউ তার নামে অবৈধ ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করেছে এবং তার অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে পরিবারের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হলে, তার আগেই বড় ভাই আত্মহত্যা করেন বলে পরিবার দাবি করে। অন্য আরেক ভাই, আব্দুল করিম, বলেন, বড় ভাই শুক্রবার মারা গেছেন, এরপর ভাবির মধ্যে শোকের কোনো প্রকাশ না হওয়া বেশি সন্দেহ জন্ম দিয়েছে। এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে, আব্দুর রবের স্ত্রী সুলতানা খাতুন শামীমা জানান, তার বোন-ভাতিজাদের সঙ্গে পারিবারিক মতের গোলযোগের কারণে তিনি এমন ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করেন, এবং হত্যার ঘটনা উদঘাটনের জন্য প্রয়োজনীয় তদন্ত চান।
দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং মামলার রিপোর্ট আদালত পাঠানো হয়েছে। তবে, এ পর্যন্ত সম্পূর্ণ তদন্তের রিপোর্ট বা মামলার বিস্তারিত এসে পৌঁছায়নি।