সরকার হর্ন বাজানোর ক্ষেত্রে আরও কঠোর হচ্ছে। এখন থেকে অনুমোদিত শব্দমাত্রার বেশি শব্দ উৎপন্নকারী হর্ন ব্যবহার করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রকাশিত ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা’ এর আওতায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভা, বিধি-৬ অনুযায়ী, কেউ অনুমোদিত শব্দমাত্রার বেশি শব্দের হর্ন ব্যবহার বা স্থাপন করতে পারবে না। এছাড়া নিশিযাপিত এলাকা ও আবাসিক এলাকায় রাতে হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে, বিধি-২০ অনুযায়ী, এসব বিধি লঙ্ঘন করলে পুলিশ আইন অনুযায়ী জরিমানা আরোপ করতে পারবে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অতিরিক্ত শব্দদূষণ এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে থাকলে কানে কম শোনা, আংশিক বা পুরোপুরি বধির হওয়া, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, মনোযোগে সমস্যা হওয়াসহ নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য এই শব্দদূষণের প্রভাব আরও ভয়াবহ। এতে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে ও গর্ভস্থ শিশুর বধিরতা বা প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা থাকে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শব্দদূষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাসপাতালের রোগী, শিক্ষার্থী, ট্রাফিক পুলিশ, রিকশা ও গাড়িচালক, পথচারী এবং এমন সব বাসিন্দা যাদের আশপাশে উচ্চ শব্দের উৎস রয়েছে। এর প্রভাব দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সতর্ক করেছে সরকার।

