দেশের অশান্ত ও সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশবাসী তাঁর দিকে আশা ও প্রত্যাশার গুাহর চোখে তাকিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে বনানীর হোটেল শেরাটনের এক অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময়কালের শুরুতে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশ। এই সময়ে আমাদের নেতা তারেক রহমান বিদেশ থেকে দেশে পৌঁছেছেন। সবাই তাঁর দিকে আশাবাদী চোখে তাকিয়ে আছে, যেন এই সংকটকালে নতুন এক স্বর্ণদ্বার খুলে যায়। তিনি ইতিমধ্যে দূর থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে জাতির সামনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, যা দেশের জনগণকে আরও আশাবাদী করেছে। এটি সত্যিই আমাদের জন্য এক বড় সুযোগ, যা দিয়ে আমরা এক সত্যিকার অর্থে একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারব।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মির্জা ফখরুল। এর পাশাপাশি তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও ১৯৭১ সালের ষষ্ঠষ্ঠ ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আমরা এমন ছেলেমেয়েদের নিয়ে গর্ব করি যাদের স্বপ্ন ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণের, আর তারা ২০২৪ সালে সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমাদের এক নতুন সম্ভাবনা এনে দিয়েছেন। তাদের প্রতি আমরা সম্মান জানাই।
গত ২৫ ডিসেম্বর দেড় যুগের নির্বাসন শেষে তারেক রহমান সপরিবারে দেশে ফিরেছেন। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তার মা, অবিসংবাদিত নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রয়াত হন। ঐ দিন থেকে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এরপর তিনি প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে গিয়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমান সাংবাদিক ও সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন কারণে দলের প্রধানের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সরাসরি দেখা বা শুভেচ্ছা বিনিময় খুব কম হয়েছে। এ কারণেই দলের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে সবাই একসঙ্গে দেখা ও কথা বলতে পারেন।

