প্রয়াত বলিউড অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর স্মরণে দুটি পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় চর্চা শুরু হয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু সময় ধরে গুঞ্জন চালু ছিল যে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একদিকে, সানি ও ববি দেওলের আয়োজনে হেমা মালিনী উপস্থিত ছিলেন না, আবার হেমার সম্পাদনায় তার আয়োজনেও সানি ও ববির প্রবেশাধিকার হয়নি। এসব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে নানা আলোচনা চলতে থাকায় এবার স্পষ্ট করে মন্তব্য করলেন হেমা মালিনী।
ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পারিবারিক এই বিচ্ছিন্নতা কিংবা দ্বন্দ্বের বিষয়টি আসলে সত্যিই কিছু নয়। তিনি যোগ করেন, এটি শুধুমাত্র আমাদের পরিবারের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। আমি একজন রাজনীতিবিদ, ফলে আমার এই আয়োজনগুলো মূলত আমার কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব ও আবেগের প্রতিফলন। দিল্লিতে আমার রাজনৈতিক সফর ও বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য আলাদা করেই এই স্মরণসভা আয়োজন করতে হয়েছে। এছাড়া, আমার নির্বাচনী এলাকা মথুরার এলাকার মানুষের অনুভূতি ভেবে সেখানে অন্য একটি অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হেমা মালিনী আরও জানান, তাদের পরিবারের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি বা ভাঙনের সুরাহা হয়নি। তারা সবাই তাঁদের প্রিয় অভিনেতা ধর্মেন্দ্রকে যথাযথ শ্রদ্ধা আর সম্মান জানিয়ে থাকেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৪ নভেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র। তার প্রিয়সাধারণ আত্মীয়-স্বজন ও ভক্তরা তাকে স্মরণে মেতেছিলেন। ৩ ডিসেম্বর হরিদ্বারে ধর্মেন্দ্রর অস্থি বিসর্জনের আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, যেখানে সানি ও ববি দেওল উপস্থিত ছিলেন। তবে, এই শেষকৃত্য ও তার পরবর্তী ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দু’পক্ষের কেউ একসঙ্গে দেখা যায়নি, যা বলিপাড়ায় নানা আলোচনা ও গুঞ্জনের সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, পারিবারিক বিভাজনের গুঞ্জনকে তিনি অস্বীকার করে বলেন, ধর্মেন্দ্রর স্মৃতি ধরে রাখতে সানি দেওল বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে চলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, মুম্বাইয়ের লোনাভেলায় অবস্থিত ধর্মেন্দ্রর ১০০ একর জমির ওপর নির্মিত ফার্মহাউসটিকে একটি মিউজিয়ামে রূপান্তর করতে পরিকল্পনা। হেমা মালিনী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি ধর্মেন্দ্রর অনুরাগীদের জন্য একটি বিশেষ উপহার হবে।

