দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নতুন একটি মামলায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে Enforcement of Anti-Terrorism Act সহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ জমা দিয়েছে। মামলার ভিত্তিতে জানতে পারা গেছে যে, আনিস আলমগীরের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ও মানিলন্ডারিংয়ের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
দুদকের মহাপরিচালক আখতারুজ্জামান জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় যে, আনিস আলমগীরের কাছে ২৫ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে, পাশাপাশি তার নামে মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা, আর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। এছাড়া পরিবারের খরচের জন্য ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। সব মিলিয়ে তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।
অভিযুক্তের বৈধ আয়ের উৎস থেকে তার আয় মোট ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এই আয় ভেতরে রয়েছে অতীতের সঞ্চয়, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয়, প্লট বিক্রি এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ। কিন্তু, তার সম্পদ ও আয়ের মধ্যে বড় ফারাক পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। এই ফারাকের কারণে তাকে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
আনিসুর রহমান আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি, তিনি বৈশাখী টিভির সাংবাদিক ও আরটিভির চিফ নিউজ এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৪ ডিসেম্বর রাতে তাকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, এরপর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তার গ্রেফতার দেখানো হয়।

