আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা আপিল করলে, চার দিনের কঠোর শুনানি শেষে জাতীয় পার্টির (জাপা) ২৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে এই আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী সাংবাদিকদের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আজ পাঁচটি আপিল আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। এর ফলে মোট চার দিনে ২৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও নাজুক। এখনও মোবাইল মিছিল, ঘেরাও সহ নানা ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। অজ্ঞাতনামা ও অনিয়ন্ত্রিত বহু সংগঠন যেন স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে চলেছে। এ ধরনের অপকৌশল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি কতদিন নির্বাচন করবে, তা দলীয় সিদ্ধান্তের অবাধ্য। এটি শুধুমাত্র দলের সিদ্ধান্তে হবে, অন্য কোনো মহল এর সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না।
এর আগে, ১২ জানুয়ারি শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানিয়েছিলেন, তারা এখন পর্যন্ত মোট ২৫টি আপিল জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ২১টি আপিল মঞ্জুর হয়েছে, ফলে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন। বাকি চারজন উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রার্থী নির্বাচন প্রসঙ্গে জানানো হয়, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের জন্য রিটার্নিং অফিসার ৬৪৫টি আপিল গ্রহণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে ৫ জানুয়ারি থেকে আবেদন সংগ্রহ শুরু হয় এবং ৯ জানুয়ারি শেষ হয়। এর আগে, ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। জাপা ২৪৪ জনের মনোনয়ন দাখিল করেছিল, যার মধ্যে কিছু অনিয়মের কারণে প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ২৫ জন আপিলে আবেদন করেন।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৮ জানুয়ারির মধ্যে শুনানি চলবে এবং ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। এর শেষ দিন হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। চলবে ভোটগ্রহণ ও গণভোটও সমপরিমাণ দিনে, অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি।