সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ। এর শুরুতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির অলি আহমদ, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশের খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা আগে রাত ৮টায় জামায়াতের পক্ষ থেকে আসন ভাগাভাগির বিষয় জানানো হয়। তবে এর আগে দুপুরে ইসলামী আন্দোলনের ছাড়া অন্য ১০ দলের নেতারা জরুরি বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে আলোচনায় এসেছে ২৫০ আসনের মধ্যে প্রত্যেকে কতটা আসন পাবে। অবশিষ্ট ৫০ আসনের জন্য ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করার পক্ষে মত প্রকাশ করা হয়।
জামায়াতের নায়েবে আমির তাহের বলেন, “আমরা সকলেই এককাট্টা হয়ে আমাদের আসন ভাগের ব্যাপারে একমত হয়েছি। কিছু জায়গায় ছোটখাটো সমস্যা এখনও রয়ে গেছে, তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগে এগুলো চূড়ান্ত করে নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, বাকি Loading আসনের বিষয়ে তারা আশা করেন, ওনারা যাদের অধিকাংশই আমাদের সঙ্গে থাকতে চান, তারা কবুল করবেন। তিনি বলেছেন, “এই নির্বাচন একেবারই আলাদা। এটি যেন ক্ষমতার লড়াই বা ভোটের লড়াই নয়, বরং আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। আমরা বিশ্বাস করি, এই নির্বাচন আমাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যেখানে আমরা জাতীয় উন্নয়ন ও পরিবর্তনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা পত্র সংগ্রহ, বাছাই ও আপিল নিষ্পত্তির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একই দিন গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা সাংঘাতিক বিষয়।
জামায়াতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান আরও বলেন, “আমরা চাই না, অতীতের মতো ফ্যাসিবাদী ও দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতি ফিরে আসুক। আগের মতো নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং বা ক্ষমতার জন্য অযৌক্তিক লড়াই না করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবাই একসঙ্গে কাজ করব।”
এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ দেশের বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে পরিবেশ একদমই অনুকূল নয়, যদি তা না হয়, তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা দোষস্বীকার করে জেলে যেতে হতে পারে। সবাই ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য নয়, দেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করবেন।”
অপরদিকে, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “এটি আমাদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। নির্বাচনী সমঝোতা ও গণভোটের মাধ্যমে আমরা সেই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে দেশের জন্য বড় কিছু করার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।”