যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাধারণ জ্ঞানের বাইরে দাঁড়িয়ে বলেছেন, বিশ্বের শান্তি বর্তমানে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই মন্তব্য তিনি প্রকাশ করেন যখন গ্রিনল্যান্ডের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও বিক্রির বিষয় নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে তীব্র আলোচনার মধ্যে থাকলেন। ট্রাম্প সমঝোতা না হলে, অর্থাৎ, যদি ইউরোপীয় দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ মালিকানা হস্তান্তর বা বিক্রির ব্যাপারে একমত না হয়, তাহলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের দ্বারা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। এরই মধ্যে, যদি এই সমঝোতা না হয়, তবে শুল্কের পরিমাণ জুনের মধ্যে বেড়ে ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে বলে জানানো হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেছেন, চীন ও রাশিয়া এই দ্বীপটি চায়; তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাই এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা বিভিন্ন মহলে ব্যাপক অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই হুমকিগুলো নজিরবিহীন ও বাস্তবতা-বিরোধী; অনেক দেশের কর্মকর্তাই বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। এর ফলে ইউরোপ ও মার্কিন সম্পর্কের মধ্যে গুরুতর অবনতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট কিয়া স্টারমার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তার বা ডেনমার্কের নয়, বরং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের। এরই মধ্যে, এই বিতর্কিত দাবির পর গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন, যেখানে তারা বলছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের’, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’ সহ বিভিন্ন ব্যানার হাতে তুলে। পাশাপাশি, ট্রাম্পের এই হুমকির প্রতিবাদে ইউরোপের আট মিত্র দেশের প্রতিনিধিরা জরুরি বৈঠক ডেকেছেন, যেখানে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক অই বিবাদপূর্ণ পরিস্থিতির সমাধান খুঁজে বেরানোর আশা করা হচ্ছে।