নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার প্রেক্ষিতে সাবেক এনটিএমসি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অবঃ) জিয়াউল আহসান এবং 그의 স্ত্রীর নামে থাকা একটি ফ্ল্যাট সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার দুপুরে জলসিঁড়ি প্রজেক্টের ১২ নম্বর সেক্টরের ৫০৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর প্লটে অবস্থিত আটতলা ভবন ‘জয়িতা’-র তৃতীয় তলার ওই ফ্ল্যাটটি সিলগালা করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের আরডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজ।
প্রশাসন জানিয়েছে, ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া থাকায় এবং সেখানে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করায় সেগুলো আপাতত সিলগালা করা হয়নি। অভিযানে পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো দেলোয়ার হোসেন, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার আবুল কালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পেছনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ এপ্রিল আদালত জিয়াউল আহসানের নামে থাকা এক বাগানবাড়িসহ চারটি বাড়ি এবং তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার নামে থাকা নয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করারও আদেশ দেন, যেগুলোতে জমা থাকা অর্থের মোট পরিমাণ এক কোটি ২৮ লাখ টাকা বলে বলা হয়েছে। ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোঃ জাকির হোসেন বিভিন্ন কৃষিজমিও জব্দের আদেশ দেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, রূপগঞ্জে জিয়াউল আহসানের নামে একটি আটতলা বাড়ি, বরিশালে একটি বাগানবাড়ি, একটি একতলা বাড়ি ও নির্মাণাধীন আরেকটি আটতলা ভবন রয়েছে। তার তিনটি ফ্ল্যাট আছে—মিরপুর, উত্তরা ও মিরপুর ডিওএইচএসে।
দুর্নীতির অভিযোগের সূত্রে গত বছরের ২৩ জানুয়ারি দুদক জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা রাখার অভিযোগও রয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, তার আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব অর্থ স্ত্রীর সহায়তায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।
দুদকের মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বছরের ৭ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।

