খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী ও বিএনপি তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, ধর্মীয় ভেদাভেদ থেকে মুক্ত রেখে সকল ধর্মের মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। কে কোন ধর্মের প্রতিনিধি—তা বড় বিষয় নয়, সবাই সম অধিকার নিয়ে বাস করবে এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে সাদৃশ্য ও সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করা হবে। তিনি আরও বলেন, ধর্মের নামে কোনো বৈষম্য স্বীকার করা হবে না।
এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পালেরহাট মাঠে জনসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল আই’র জনপ্রিয় উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে হেলাল বলেন, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ রোধে এবং নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ‘‘নারী সমাজকে সম্মান ও নিরাপত্তা ছাড়া বাস্তব উন্নয়ন সম্ভব নয়,’’ তিনি যুক্ত করেন।
মাদক ও সন্ত্রাস দমন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হেলাল বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়—ধর্ম চর্চা ও ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রসারও অপরাধ দমন ও সুস্থ সামাজিকতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি পরিবারকে বাল্যকাল থেকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং খেলাধুলাকে বাড়িয়ে যুবসমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রাখা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, বিএনপি সরকার গঠিত হলে তিনটি উপজেলায় তিনটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।
নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও ভূমি অফিসের দুর্নীতির প্রসঙ্গ উঠে আসলে তিনি বলেন, ইউনিয়নসহ উপজেলার ভূমি অফিসগুলোতে কোনো অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ছাড়াই সেবা নিশ্চিত করা হবে এবং দালালমুক্ত ভূমি দফতর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামীতেও এমন ধরনের অভিযোগ পেলে সাংবাদিক ও জনগণকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি হুমকি উচ্চারণ করেন।
নিজের বিরুদ্ধে প্রায়ই মিথ্যা মামলা ও কারাবরণ সংক্রান্ত প্রশ্নে হেলাল বলেন, ‘‘চ্যালেঞ্জ মেনে না নিলে নেতৃত্ব গড়ে ওঠে না। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে আমি প্রস্তুত।’’ তিনি অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানই নিজের রাজনীতির মূল আদর্শ হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রশ্ন-উত্তর পর্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফজল হেলাল, মেডিকেল শিক্ষার্থী রাহুল, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি জয় নোটন বাড়ই, ফিফা রেফারি মনির ঢালী, সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেন, বাকির হোসেন, প্রধান শিক্ষক বিউটি পারভিন, হাফিজুর রহমান, আঃ কুদ্দুসসহ শতাধিক সাধারণ জনগণ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল হক সজল, রূপসা উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, তেরখাদা আহ্বায়ক চৌধুরী কাউসার আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু, উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, আনিসুর রহমান, জেলা বিএনপি নেতা শেখ আলী আজগর, এম এ সালাম, মোল্লা রিয়াজুল ইসলাম, আছাফুর রহমান, জেলা যুবদল নেতা গোলাম মোস্তফা তুহিন, তাঁতিদল নেতা মাহমুদুল আলম লোটাসসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণজনে আনন্দের পরিবেশ বজায় ছিল এবং সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী কুদ্দুস বয়াতী।

