দেশের দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি জানাতে ‘প্রাণ দুধ’ শুরু করেছে ‘প্রাণ দুধ–খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ কর্মসূচি। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের এমসিসিআই সম্মেলন কেন্দ্রে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়।
ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য দুই জোড়া — দুগ্ধশিল্পে নিবেদিত প্রান্তিক খামারিদের কৃতিত্ব সম্মানিত করা এবং তাদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প তুলে ধরে সমাজের ব্যাপক স্তরে দুগ্ধশিল্পকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে উৎসাহ দেওয়া। অনুষ্ঠানে প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা সম্মাননা স্মারক উন্মোচন করেন।
ইভেন্টে জানানো হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত প্রাণ ডেইরীর ১২৪টি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র (ভিএমসিসি) থেকে স্পট রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। পাবনা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, মাগুরা, কুড়িগ্রাম, নাটোরসহ দেশের অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে তালিকাভুক্ত প্রায় ১৬,০০০ দুগ্ধ খামারি রেজিস্ট্রেশন ফর্মে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করবেন।
রেজিস্ট্রেশনের পর দ্বিতীয় ধাপে জমা হওয়া আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ জুরি বোর্ড গঠন করা হবে। জুরির প্রাথমিক কাজ হবে ১০ জন ‘খাঁটি খামারি’ নির্ধারণ করা। চূড়ান্ত পর্যায়ে জুরির প্রদত্ত নম্বর ও ভোক্তাদের অনলাইন/সামাজিক গণভোটের সমন্বয়ে সেরা তিনজন খামারিকে নির্বাচিত করা হবে।
ওই সেরা তিনজনের জন্য থাকবে সম্মাননা স্মারক এবং এক লাখ টাকার সমমূল্যের পুরস্কার; বাকি সাতজনকেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে।
প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদান রাখা খামারিদের সম্মানিত ও অনুপ্রাণিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তাদের সংগ্রাম ও সফলতার গল্প তুলে অন্যদেরও গাভি লালন-পালনে আগ্রহী করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ পৌঁছে দেওয়ার প্রাণ দুধের অঙ্গীকারও আমরা তুলে ধরছি।”
প্রাণ ডেইরীর চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান বলেন, “দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাণ দুধ দেশের অসংখ্য খামারিকে ন্যায্য মূল্য, প্রশিক্ষণ ও ভেটেরিনারি সেবা প্রদান করে সহায়তা করছে; ফলে অনেক খামারির জীবনমান লক্ষ্যণীয়ভাবে উন্নত হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. আলী হাসান, প্রাণ ডেইরীর হেড অব মার্কেটিং সৈয়দ মুস্তায়িন কাদের, ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফজলে এলাহি নাঈম এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

