টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আসন্ন আয়োজনের মাঝে ভারতে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মূল অয়োজক ভারত ও সহ-অয়োজক শ্রীলঙ্কায় অনির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচের জন্য ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভারতে থাকবেন আহমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাই—পাঁচটি ভেন্যুতে এবং শ্রীলঙ্কায় কলম্বো ও ক্যান্ডিতে মোট ৫৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে সাম্প্রতিক নিপাহ সংক্রমণের ঘটনা কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট কেন্দ্রের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা সৃষ্টি করেছে। এই ভাইরাসের প্রভাব মেটাতে হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ট্রাভেল ও ট্রেনিং নিয়ম কঠোর হতে পারে, এমনকি পুরো টুর্নামেন্টটাই হয়তো স্থানান্তর বা স্থগিতের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে ভারতে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে হাই এলার্ট জারি করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম যেমন জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার ও খাইবার নিউজ এই পরিস্থিতির গুরুত্ব গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করছে, অনেকেই টুর্নামেন্টের শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর বা বন্ধের পরামর্শ দিচ্ছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সংক্রমণ খুবই ছোট আকারের। তবে আইসিসি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।
শুধু কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যার মধ্যে সেমিফাইনালও রয়েছে। যদি সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকদের জন্য ট্রাভেল ও সিকিউরিটির নিয়ম কঠোর হতে পারে। এয়ারপোর্টে স্ক্রিনিং বাড়ানো হয়েছে, কিছু দেশ ইতিমধ্যে কোয়োরেন্টিন ও ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন আরোপ করেছে। এতে উদ্ভিন্ন হতে পারে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও দর্শকদের অভিজ্ঞতা।
জানুয়ারি ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণপুরের কাছে বারাসাত এলাকায় নিপাহ ভাইরাসের ক্লাস্টার দেখা গেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে এখনও মৃত্যুর খবর আসেনি। সংক্রমণের মূল উৎস হলো হাসপাতাল পর্যায়ে ফলের বাদুড় থেকে ছড়িয়ে পড়া। কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ১০০-২০০ জন ব্যক্তিকে কোয়ারান্টিনে রেখেছে ও বেশিরভাগের নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে।
প্রারম্ভিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কেরালায় চারটি নিপাহ কেসের ঘটনা ঘটেছিল, যার মধ্যে दोজনের মৃত্যুও হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে এটি ২০০৭ সালের পর প্রথম বড় আউটব্রেক।
নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা ফলের বাদুড় বা ফ্রুট ব্যাট থেকে ছড়ায়। সংক্রমণের প্রধান উপায় হলো কাঁচা খেজুরের রস, সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ বা মানুষের মধ্যে সবাই রুটিন ক্লোজ কন্টাক্ট। লক্ষণগুলো হলো জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস)। মৃত্যুর হার খুবই উচ্চ, ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন নেই, তবে কিছু ওষুধ যেমন রেমডেসিভির ব্যবহার হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

