২০ কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে হেফাজত ইসলামের সাবেক নেতাসহ মোট ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ঢাকা মহানগর হাকিম মোরশেদ আল মামুন ভূঁইয়া এই মামলার তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। আজ বুধবার (১৬ জুন) আদালত সূত্রের মাধ্যমে মামলার বিস্তারিত জানা গেছে।
প্রথমে, গতকাল মঙ্গলবার (১৫ জুন) আল মাদরাসাতু মুঈনুল ইসলামের পক্ষ থেকে মামলাটি করেন মামলার বাদী মাওলানা আবদুর রাজ্জাক কাসেমী। তার অভিযোগ, মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের সম্পদ হিসেবে দেখানো হয় হাজার হাজার টাকার বিভিন্ন খরচ, যা আসলে পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাতের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা বিভিন্ন সময় ছাত্র-শিক্ষকদের কাছ থেকে চাল, ডাল, রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর পাশাপাশি, ২০২০ সালের ৯ অক্টোবর নর্দা বারিধারা সংলগ্ন প্রগতি সরণি মেইন সড়ক অবরুদ্ধ করে ওই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থপর কিছু ব্যক্তির নেতৃত্বে প্রায় ২৫০ জন হেফাজতকর্মী ও উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র-শিক্ষক বাহিনী নিয়ে একটি জনসভা করে, যেখানে মূলমন্ত্র ছিল ‘সাদ সাহেব ও তার অনুসারীদের মালামাল হলো গনিমতের মাল’ বলে প্রলোভন দেখানো। এই জনতা বিভিন্ন মাদরাসা থেকে ভুলে বিভ্রান্ত করে অপ্রয়োজনীয় অর্থ, ক্যাশ টাকা, রশিদ বই, খরচের ভাউচার, স্টক ও খতিয়ান বইসহ মূল্যবান দলিলপত্র লুট করে ফেলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এ ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর, যখন শিক্ষকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভার সময় আসামিরা দলবল নিয়ে ভেঙে পড়ে ও মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়ার পাশাপাশি লাঠি, দা, বাঁশ দিয়ে হামলা চালিয়ে আহত করেন অনেককে। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপস্থিত অতিথিরা মারাত্মক জখম হন।
এ সব ঘটনার মধ্যে মূল কারণ হিসেবে জানা যায়, কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থপরভাবে সম্পদ লুটপাট ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এই মামলার মাধ্যমে বদনাম ও অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।