যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে ব্যাপক তুষারঝড়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক ক্ষতি ও দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছে। এই কঠোর আবহাওয়ার কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল থেকে শুরু হওয়া এই তুষার ঝড়ের প্রভাব এখনও অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৭০০ এর বেশি বিমান ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রোড আইল্যান্ড ও ম্যাসাচুসেটসের কিছু অংশে আনন্দের সাথে রেকর্ড পরিমাণ ৩৭ ইঞ্চি (৯৪ সেন্টিমিটার) তুষারপাত হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কেও ১৯ ইঞ্চির বেশি তুষার জমেছে। ঘণিথ ঝড়ের কারণে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের যানচলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে, যা সাধারণ জীবনযাত্রাকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে।
পূর্ব উপকূলের প্রায় ৬ লাখ ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে, এর মধ্যে নিউজার্সি ও ম্যাসাচুসেটস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তুষারপাতের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে রোড আইল্যান্ডের রাজধানী প্রভিডেন্সে ৩৬ ইঞ্চি তুষার জমে যায়, যা ১৯৭৮ সালের আগে দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিকে অনেক আবহাওয়াবিদ ‘বিস্ময়কর’ ও বিরল উল্লেখ করে থাকেন। সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য রোড আইল্যান্ড, কানেকটিকাট ও ম্যাসাচুসেটসে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের যানচলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর মৌরা হিলি সতর্ক করে বলেছেন, হোয়াইটআউট বা প্রবল তুষারঝড়ের কারণে রাস্তাঘাট বেশ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, সব নাগরিককে বাড়িতেই থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আকাশপথেও এই ঝড়ের প্রভাব ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে আনেছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরের ৯৮ শতাংশ এবং জেএফকে বিমানবন্দরের ৯১ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়াও বোস্টন ও ফিলাডেলফিয়ায় প্রায় ৮০ থেকে ৯২ শতাংশ ফ্লাইটের চলাচল বন্ধ রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, আগামী মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আরও ২ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। এই তুষার ঝড়ের কারণে আমেরিকার পর্যটন ও যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাপক ব্যাহত হয়েছে এবং জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

