বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বনানীর সামরিক কবরস্থানে দর্শনীয় এক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিলখানায় নিহত সেনাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও গভীর সম্মান জানানো জন্য উপস্থিত ছিলেন। তারা এই দিনটি স্মরণ করে শহীদ সেনাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী এক বাণীতে বলেন, নাগরিক হিসেবে এই ট্রাজেডির সঙ্গে সবাইকে সচেতন ও অবগত থাকতে হবে। তার মতে, পিলখানার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখন সবাই জানতে পারছে এবং এটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধির বিষয়। তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে এই ভয়াল ঘটনার পর থেকে দেশের জনগণ অনেক কিছু উপলব্ধি করেছে এবং তারা শেকড়ের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্বাধিকার রক্ষা করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে যারা এমন কর্মকাণ্ড চালায়, তাদের জন্য সমুচিত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী দেশের গৌরব, স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রতীক, এবং ভবিষ্যতেও এ গৌরব অক্ষুণ্ণ রাখতে দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে। দেশের স্বার্থে কোনও ষড়যন্ত্র বা বিদ্রোহ মোকাবিলার জন্য আমাদের সকলের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, এটাই শহীদ সেনা দিবসের মূল শিক্ষা।
১৭ বছর আগে ২০০৯ সালের এই দিনে তৎকালীন বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিডিআর), বর্তমানে বিজিবির সদর দপ্তর ঢাকার পিলখানা ভবনে ভয়াবহ বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বিপুল সংখ্যক সেনা কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিহত হন। এর মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদসহ মোট ৭৪ জন।
আজ এই দিনটি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে, যা গত বছর থেকে নিয়মিত পালন শুরু হয়েছে। এই দিনের মাধ্যমে শহীদ সেনাদের স্মরণ, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও দোয়া আদায় করা হয়। দেশের স্বাধিকার ও নিরাপত্তার জন্য যারা জীবন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানানো ও স্মরণ করার মাধ্যমে আমাদের দায়িত্ব ও গৌরবের গভীর অনুভব প্রকাশিত হয়।

