আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর নেমে আসায় দেশের বাজারেও সোনার দাম কমানো হয়েছে—এমন তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৯,২১৪ টাকা পর্যন্ত দাম কাটা হয়েছে।
বাজুস বুধবার (৪ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নতুন মূল্যসুচি সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কার্যকর। এতে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা; গতকাল একই ছিল ২৭৭,৪২৮ টাকা। অন্যান্য ক্যারেটের দামও এই অনুপাতেই কমানো হয়েছে—২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২,৫৬,০২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২,১৯,৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি ১,৭৯,১৫৯ টাকা করা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দর কমায় স্থানীয় বাজারে মূল্য হ্রাস করা হয়েছে। সোনার সঙ্গে রুপার (রুপা) দামও সমন্বয় করা হয়েছে—২২ ক্যারেট রুপার এক ভরি ৬,৫৩২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬,২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫,৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪,০২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত কয়েক দিনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংক্রান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ছিল। তবে আজ আন্তর্জাতিক দর দুর্বল হয়ে ১ আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৫,১৬৪ ডলারে; গতকাল এটি ছিল ৫,৩৫৯ ডলার—অর্থাৎ мировবাজারে দরপতন দেখা গেছে। (সূত্র: গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি)।
সূত্রে আরও দেখা যায়, চলতি বছরের শেষ জানুয়ারিতে সোনার দর ঊর্ধ্বমুখী ছিল—৩০ জানুয়ারি এক আউন্সের দাম ছিল ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫,৫৫০ ডলার তোলা হয়। দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারের উত্থানের প্রভাব পড়ে; ২৯ জানুয়ারি একবারে প্রতি ভরিতে ১৬,২১৩ টাকা বৃদ্ধির ফলে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম রেকর্ডভাবে উঠে দাঁড়ায় দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিল।
সংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক বাজারে পতনের ছায়া পড়ায় বাজুস দেশি বাজারে এক ধাপে দাম কেটে স্থানীয় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য সামঞ্জস্য করেছে। আগামীদিনে আন্তর্জাতিক দর কেমন ওঠানামা করবে, সেটিই ভবিষ্যৎ দামের নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

