প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন করে তোলার জন্য সরকার নতুন উদ্যোগ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে, কড়াইল বস্তিসংলগ্ন, এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, নারীদের ক্ষমতাস্তরে উন্নীত করা আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্যেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে, যা নারীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। নারীরা যদি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হন, তাহলে দেশও এগিয়ে যাবে। তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি দেশের নেতৃত্বে আসার পর আমরা দ্রুতই প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে অনেক কৃষক এই কার্ড গ্রহণ করতে পারবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কড়াইল, সাত তলা বস্তি ও ভাষানটেকের ১৫ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে চার কোটি নারীর কাছে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী এর সঙ্গে স্ত্রী জুবাইদা রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন মন্তব্য করেন, আজ থেকে ফ্যামিলি কার্ড আর কোনো স্বপ্ন নয়, এটি এখন সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। এটি একটি ভরসার নাম, আস্থার প্রতীক। তিনি বলেছিলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলি মাসিক ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে, যা মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি ঘরে বসে দেওয়া হবে।
পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই পর্যায়ে ৬৭,৮৫৪ নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই তথ্যভাণ্ডার ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে পরিবারগুলোকে দলবদ্ধ করে দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে phânভাগ করা হয়।
সঠিকভাবে যাচাইয়ের পর, ৫১,৮০৫ পরিবারের মধ্যে ৪৭,৭৭৭ পরিবারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এরপর সেগুলোর মধ্যে যেসব পরিবারে একাধিক ভাতা ভোগ করা, সরকারি চাকরি বা পেনশন থাকাও দেখা গেছে, তাদের বাদ দেওয়া হয়। চূড়ান্তভাবে, ৩৭,৫৬৭ নারীপ্রধান পরিবার এই ভাতার জন্য নির্বাচিত হয়।
সরকার জানায়, যদি কোনো নির্বাচিত নারী পরিবারপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পান, তাহলে সেটি বাতিল গণ্য হবে। তবে অন্য সদস্যরা আগের মতো ভাতা নিতে পারবেন।
বলা হয়, যদি পরিবারের অন্য কোনো সদস্য সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, বা পরিবারের নামে ব্যবসায়িক লাইসেন্স, বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা বিলাসবহুল সম্পদ (গাড়ি, এসি, বড় সন্ধান বা সঞ্চয়পত্র) থাকলে, সেই পরিবার ভাতা পাবেন না।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই প্রকল্পে দল বা কোনো গোষ্ঠী বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। আরও জানানো হয়, পরীক্ষামূলক প্রকল্প শেষ হলে হতদরিদ্র পুরুষপ্রধান পরিবারের জন্যও ভাতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
