‘‘দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব’’ প্রতিপাদ্যে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও অগ্নিকান্ড ও ভূমিকম্প থেকে আত্মরক্ষার ওপর মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম। তিনি বক্তব্যে বলেন, জনসচেতনতা হলো দুর্যোগ মোকাবিলার প্রধান হাতিয়ার। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে দুর্ঘটনাকে বৃহত্তর বিপর্যয়ে পরিণত হতে বাধা দেয়া যায় এবং জীবন ও মালমাল রক্ষায় তা সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
আরিফুল ইসলাম আরও জানান, ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে পড়ে — তাই আমাদের সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি সবাইকে সাহস ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, পরিবেশ রক্ষা হলে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল করিম সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মাসুদ সরদারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা। তারা মহড়ায় অংশ নিয়ে অগ্নি ও ভূমিকম্পের সময় করণীয়, দ্রুত সীমিত ক্ষতি ও উদ্ধারকর্ম পরিচালনার কৌশল উৎকর্ষ করার নির্দেশনা দেন।
দিবসটির অংশ হিসেবে খুলনা কালেক্টরেট চত্বরে অগ্নিকান্ড ও ভূমিকম্প থেকে আত্মরক্ষার মহড়া প্রদর্শন করা হয়। এর আগে নগরীর শহিদ হাদিস পার্ক থেকে জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
দিবসটি মূলত জনসচেতনতা বাড়ানো, দুর্যোগ প্রতিরোধ ও দ্রুত সাড়া দানের সক্ষমতা শক্তিশালী করাই লক্ষ্য রাখে। আয়োজকরা বলেন, নিয়মিত মহড়া ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ চালিয়ে জনগণকে আরো প্রস্তুত করা হবে।

