আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সদ্য অবসানপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ ও ফাঁস হওয়া অডিওর ঘটনায় ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু হওয়ায় সব ধরণের অনিয়ম খতিয়ে দেখা হবে—এমনটাই জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, তথ্য-অনুসন্ধানকারী এই কমিটি যদি অনিয়ম পায়, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চিফ প্রসিকিউটর মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এই কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। কমিটিতে পাঁচ জন সদস্য থাকবেন এবং তার কার্যক্রম বুধবার (১১ মার্চ) থেকে শুরু করেছে বলেও তিনি জানান। কমিটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রসিকিউশন বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।
জুলাই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় বিচার চলাকালীন সময়ে নতুনভাবে গরমালো ঘুষসংক্রান্ত অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। চিফ প্রসিকিউটর নিজেই জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা বিচারপ্রক্রিয়াকে সন্দেহাতীতভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত গুম, হত্যাসহ জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলাগুলোতে বিচার শুরু হয়; ইতোমধ্যে তিন মামলায় রায় দেওয়া হয়েছে এবং আগামী মাসে আরেকটি মামলার রায় ঘোষণা হবে। পাশাপাশি কয়েকটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রসিকিউশনের বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উঠেছে—কিন্তু সদ্য সাবেক প্রসিকিউটর তালুকদারের ঘুষচাওয়ার অডিও ফাঁস হওয়া ঘটনার পর আলোচনা ও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর ঘটনাটিকে গুরুত্বসহকারে দেখে বলছেন, অনুসন্ধানে যা পাওয়া যাবে তা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
একই দিনে ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের মামলার শুনানিও হয়। ট্রাইব্যুনাল ৩০ মার্চ এই মামলাগুলোতে মামলার বিচার শুরু হওয়া বা না হওয়ার বিষয়ে আদেশ জানাবে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চালানো হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর পুনরায় জানিয়েছে, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি সত্য উদঘাটন করতে কাজ করবে এবং যদি তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়ে, তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত স্বচ্ছ ও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

