জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের শহীদ গোলাম নাফিজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় পরিবেশের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও চালক নূর মোহাম্মদ তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি পুলিশ ও আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে নাফিজকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিতে চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনার ছবি ও প্রতিবেদন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরে ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি।
আজ তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ পেয়েছেন। বুধবার তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, এটি তার জীবনের অন্যতম বড় পাওয়া। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, সেই জন্য গতদিন তিনি সংসদ ভবনে গিয়ে আমন্ত্রণপত্র বা কার্ড গ্রহণ করেছেন। তবে কার্ডের মধ্যে কী লেখা রয়েছে, তিনি তা পড়তে পারেননি। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা তাকে আরও সতর্ক করেছেন যেন কার্ডটি হারিয়ে না যায়।
স্মরণযোগ্য, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ক্ষোভের ghnাে সংঘর্ষের মাঝে গোলাম নাফিজ গুলিবিদ্ধ হন। বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। তিনি রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করে উচ্চতর শিক্ষায় ভর্তি হন। পরিবারসহ মহাখালীতে থাকতেন। তিনি দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট ছিলেন। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেছে, ৪ আগস্ট বিকেলে ফার্মগেটের পদচারী-সেতুর নিচে গুলিবিদ্ধ হন নাফিজ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ যখন তাকে রিকশার পাদানিতে বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, তখনও সে রিকশার রড ধরে ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তখন আওয়ামী লীগের কিছু নেতা বাধা দিতে গেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়। পরে নাফিজকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে খামারবাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
দৈনিক মানবজমিনের ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদের তোলা ছবি, যেখানে দেখা যায় রিকশার পেছনে একটি মোবাইল নম্বর, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই নম্বরে যোগাযোগ করে নাফিজের পরিবার তার খোঁজ পান।
পরে জানা যায়, ওই রিকশাটির মালিক নূর মোহাম্মদ নিজেই। ঘটনা সময় তিনি ফার্মগেটের ‘গ্যাং’ এর মধ্যে পড়েছিলেন। পুলিশ তাকে ডেকে নিয়ে গেলেও, তিনি তখন সেখানে ছিলেন। কিছু সময় পরে তিনি খামারবাড়ির দিকে রিকশা নিয়ে যান, যেখানে কিছু মানুষ তাকে নাফিজকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পেট্রোল দেন।
অবশেষে, গত ৭ নভেম্বর এই রিকশাটি নূর মোহাম্মদের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে কেনেন একজন ব্যবসায়ী। ওই রিকশার স্মৃতি এখন এক স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রাখা হয়েছে, যা এখন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।