বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর তিনটার দিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ ১২ জন মারা গেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।
সংঘর্ষের পর আটজনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং বাকি চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতালে পৌঁছুকালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা ঘটনাস্থল ও আহতদের অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান, যে সময়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে যানবাহন দুটির গতিবেগ খুব বেশি ছিল। দ্রুত গতিতে সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন যাত্রী নিহত হন এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সহ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের মধ্যে অনেককেই রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, আদি হিসাব অনুযায়ী চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে; তবে হাসপাতালে আরও মরদেহ আসায় মোট নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানিয়েছেন, সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত হাসপাতলে আটজনের মরদেহ এসেছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী এবং দুইজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তার চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয়রা বলছেন, হতাহত ও আহতদের পরিবারের খোঁজ নেয়া হচ্ছে, তবে অনেকের নাম-ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু জানান, তার পরিবারের বড় ছেলে জনি ফোন করে বলেছিল—‘আমি ছাড়া পরিবারের সবাই একই গাড়িতে ছিল, তারা সবাই মারা গেছে। আমি রামপাল হাসপাতালে যাচ্ছি, তোমরা খুলনা মেডিকেলে চলো।’ মিঠু বলেন, তারা হাসপাতালে এসে কাউকে জীবিত পাননি, সবাই মারা গেছে।
বর্ধমান তদন্ত চলছে; পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার সঠিক কারণ শনাক্ত করতে চেষ্টা করছে।

