রাজনৈতিক কারণে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ ফিরে এসেছে জোরালো সুরে। ঘরের মাঠে তারা খেলেছে এক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ — সেটি জিতে মাঠে ফিরেই ভালো খবর দিলো জাতীয় দল। একই সঙ্গে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিটের দৌড়ে র্যাংকিংয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেছে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে শুরুটা শক্তভাবে করেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে হতাশাজনকভাবে হারতে হয়, কিন্তু সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে দারুণ লড়াই করে ১১ রানের জয় নিশ্চিত করে শিরোপাও মােঁটানো হয় এবং র্যাংকিংয়ে উন্নতি নিশ্চিত হয়।
আগামী বছরের ৩১ মার্চ র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে কারা সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া র্যাংকিংয়ে থাকা অন্য শীর্ষ ৮ দল সরাসরি যোগ্যতা পাবে; এছাড়া অন্য একটি স্বাগতিক দল নামিবিয়াও সরাসরি খেলবে। যদি দক্ষিণ আফ্রিকা র্যাংকিংয়ে শীর্ষ আটের মধ্যে থাকে, তাহলে সরাসরি সুযোগ পাবে সেরা নবম দলও — ফলে বাংলাদেশকে সরাসরি খেলার নিশ্চয়তার জন্য অন্তত সেরা ৯-এর মধ্যে থাকতে হবে। আপাতত ওই অবস্থানেই তারা উঠে এসেছে।
গত শতকে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পরও র্যাংকিংয় ছিল বাংলাদেশ ১০ নম্বরে, রেটিংয়ে ক্যারিবীয়দের সঙ্গে শুধু ১ পয়েন্টের ফারাক ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশের র্যাংকিংয়ে বড়সড় বদল এসেছে — তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলেছে এবং এখন আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে ৯ নম্বরে উঠে এসেছে।
সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের রেটিং ছিল ৭৬ পয়েন্ট; ২-১ সিরিজ জয়ে সেটি এখন বেড়ে ৭৯। দুর্গতি হিসেবে ক্যারিবীয়রা এখন ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বরে নেমেছে। পাকিস্তান সিরিজ হারলেও তাদের অবস্থান চতুর্থেই রয়ে গেছে; তবে তাদের রেটিং ১০৫ থেকে কমে ১০২ পয়েন্টে নেমেছে।
এই জয়ের ফলে বাংলাদেশ নকআউট রেসে আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগোতে পারবে। মার্চের র্যাংকিং প্রকাশের আগে প্রতিটি সিরিজই এখন আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।

