একদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে বিরতির জন্য শান্তি আলোচনা করার কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; অন্যদিকে পেন্টাগন যুদ্ধের বিকল্প হিসেবে আরও কড়া সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে।
প্রতিবেদনে ওই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই বাহিনীতে পদাতিক সৈন্য ও সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের কিছু ইউনিট, প্রায় পাঁচ হাজার জনবল এবং প্রায় দুই হাজার প্যারাট্রুপারকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে; এখন তাদের সঙ্গে আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
তবে এসব সৈন্য ঠিক কোথায় মোতায়েন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি; তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
একই সময়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, ইরান সরকারের অনুরোধে তিনি ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার সিদ্ধান্তকে ১০ দিন স্থগিত রেখেছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় সময় ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত ওই হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তেহরান সেই অনুরোধের কথা অস্বীকার করেছে।
সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, দুই ধরণের সংকেত একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে—একটি কূটনৈতিক দরজার খোলা ইঙ্গিত, আরেকটি সামরিক সম্ভাবনার প্রস্তুতি। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দ্রুত পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

