খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, খুলনা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশে পরিণত করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা না হলে মশা ও মশাবাহিত রোগের সমস্যা বাড়বে—এই চিন্তা থেকেই তারা কাজ শুরু করেছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করে পরিচ্ছন্নতার পথে বাধা সৃষ্টি করছে এমন বিষয়গুলো সনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব বাধা দূর করা ছাড়া জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান অসম্ভব হবে।
কেসিসি প্রশাসক রোববার বিকেলে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে ‘‘খুলনা সিটি কর্পোরেশনে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবিতা’’ শীর্ষক সভায় এসব কথা বলেন। খুলনা পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ধারণাপত্রটি তৈরি করেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মোঃ ওয়াসিউল ইসলাম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ওই ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।
সভায় বলা হয় পানি, বাতাস, শব্দ ও পলিথিন দূষণসহ পরিবেশগত দূষণের সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরাসরি জড়িত। বিশেষ করে পলিথিন ড্রেন ও নালায় আটকে গেলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। মহানগরীর সংলগ্ন ২২টি খাল থাকলেও দখলবিড়ম্বনা ও নানা কারণে নিষ্কাশন কার্যক্রম সম্পূর্ণ কার্যকর হচ্ছে না।
স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি উল্লেখ করে সভায় প্রস্তাব করা হয়—কালচারাল প্রোগ্রামের মাধ্যমে পরিবেশগত সচেতনতা তৈরী, শিক্ষক ও ইমামদের সাহায্যে সামাজিক ও পরিবেশগত শিক্ষা দেওয়া এবং ব্যাপকভাবে ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা। নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তনেও দূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। ধারণাপত্রটি বাস্তবায়নের জন্য ২৭নং ওয়ার্ডকে পাইলট ওয়ার্ড হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
কেসিসি প্রশাসক আরও জানান, চলতি বছরে সারাদেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; খুলনাকেও সবুজায়নে গুরুত্বক দিয়ে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে। শিগগিরই ‘কেমন খুলনা চাই’ বিষয়ক কর্মশালা/আলোচনা আয়োজন করে নাগরিক প্রতিনিধি, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীদের মতামত গ্রহণ করে বাস্তবায়ন শুরু করা হবে। খুলনা পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের যে কোনো উদ্যোগে কেসিসি সহযোগিতা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় খুলনা পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি এডভোকেট কুদরত-ই-খুদা, ট্রেজারার অজান্তা দাস, সদস্য এস কে এম তাছাদুজ্জামান, এডভোকেট জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী, খলিলুর রহমান সুমন, নাগরিক নেতা শাহিন জামান পন, উন্নয়ন কর্মী এম নাজমুল আজম ডেভিড, পরিবেশ কর্মী শরিফুল ইসলাম সেলিম, পরিবর্তন-খুলনার সমন্বয়কারী শাহালা হাবিবি সহ কেসিসি’র কনজারভেন্সি অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন।

