রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামে শামসুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মালিক পক্ষের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে জমির স্বত্বাধিকারী। গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতের সহায়তায় জমির দখল নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে তারা স্থানধারন করতে গেলে ছাত্র-শিক্ষক ও অন্যঝের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের কিছু ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলমান ছিল। ওই মামলার রায় অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে স্কুলের ওপর দখল নিতে আসেন জমির জমা মালিক শাহজাহান শেখ, উকিল, বিচারক ও পুলিশের সমর্থনে। এ সময় স্কুলের শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা জমি রক্ষায় বাধা দেয়। পরিস্থিতি এমনদিকে মোড় ঘুরতে থাকে যে, উকিল কমিশনও তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রধান শিক্ষক হায়দার আলীসহ অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এতে মানসিক ও শারীরিক হতাশায় পড়ে স্কুলের পরিবেশ অনেকাংশে বিঘ্নিত হয়। ঘটনার সময় স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক নৈহাটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোল্লা সাইফুর রুহমান বলেন, এই ধরনের জমি দখলের ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দেন।
প্রথমে এই ঘটনা শুনে আমি ঘটনাস্থলে আসি; আমরাও চান একটি ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধান। প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী বলেন, স্কুলটি এলাকার মানুষের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত। এই জমির জন্য আমরা বহু ত্যাগ স্বীকার করেছি। আমাদের দাবি, নোটিশ না দিয়ে এইভাবে স্কুলের মাঠ ও জমি দখল করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং এতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হবে। এই মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করে থাকে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক আঘাতের ঘটনাও জানানো হয়, যার কারণে আমি এবং আমার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
অপরদিকে, উকিল কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা আদালতের রায় অনুযায়ী এসেছি; কিন্তু স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সহযোগিতা না করে বাধা প্রদান করেছে।
জমির মালিক শাহজাহান শেখের সূত্রে জানা যায়, শামসুর রহমান মিনা তার নিজ জমির কিছু অংশ স্কুলের নামে স্মরণীয় করে দেন এবং কিছু অংশ বিক্রির মাধ্যমে তার ওয়ারিশগণ এই জমি মালিক হন। অনেক বছর ধরে জমির মামলা চলার পর সম্প্রতি তিনি রায় লাভ করেন। সেই রায়ের ভিত্তিতে আজকের দিনেও উকিল কমিশন জমি দখল বুঝিয়ে দেবার জন্য আসেন।