মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবেই পাকিস্তানে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। দেশটিতে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে—ডিজেলের দাম লাফিয়ে প্রায় ৫৫% বেড়ে লিটারপ্রতি ৫২০ রুপি এবং পেট্রোল ৪২% বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ৪৫৮ রুপিতে পৌঁছেছে।
এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিত্য যাপন ও পরিবহন খরচে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। পরিবহন সেক্টর ও নিত্যপণ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর বোঝা বেড়েছে।
স্থানীয়রা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। এক নাগরিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘৪৬০ রুপি লিটার পটলে মানুষ কীভাবে সংসার চালাবে? প্রথমে প্রতি লিটারের দাম ৫৫ রুপি বাড়ানো হয়েছিল, এরপর আরও ১৩৭ রুপি—দরিদ্রদের ওপর এটি অন্যায়।’ এ ধরনের আর্তনাদের সঙ্গে প্রশাসনের ইতিবাচক উদ্যোগও এখন অনেকাংশে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী—বিশ্বের প্রধান জ্বালানি পরিবহনের নিকোণে—এই পরিস্থিতির মূল কারণগুলোর একটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর পরিস্থিতির তীব্রতার কারণে ওই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে পারস্য উপসাগরে প্রতি মাসে পর্যাপ্ত জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্থ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে পড়ে রয়েছে, যার মধ্যে ৩২০টির বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার।
এই বাধার ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর রফতানি বিপন্ন এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ সংকটে পড়েছে—ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানে তেলের তীব্র চাহিদা ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মূল্যচাপ আরও তীব্র হবে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
এই পরিস্থিতির মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাকিস্তানের দুটি জাহাজ নিরাপদে পার হয়েছে। তিনি বলেছেন, আরও ২০টি পাকিস্তান পতাকার জাহাজ যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের প্রচেষ্টার কারণে এই সফলতার সুযোগ হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা ও সাধারণ মানুষ উভয় পক্ষই বলছেন, অল্প কিছু জাহাজের সফল পারাপারের খবর দ্রুত বাড়তি মূল্যচাপ ও সরবরাহঝুঁকি নিরসন করবে না। সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং তুলনামূলকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা বা রিলিফ নীতির ব্যবস্থা করা।

