মালদ্বীপের মালেতে শুক্রবার আয়োজিত ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে বাংলাদেশ। নিয়মিত সময়ের ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য ড্র শেষে পেনাল্টি শুটআউটে লাল-সবুজ শিবির ৪–৩ ব্যবধানে ভারতকে পরাজিত করে শিরোপা ধরে রাখে। এই জয় মার্ক কক্সের শিষ্যদের দক্ষিণ এশিয়ার যুবফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আবারও প্রমাণ করল।
ম্যাচের শুরুতেই ভারত কিছুটা আক্রমণাত্মক ছিল। চতুর্থ মিনিটে রোহেন ডান প্রান্ত থেকে ক্রস পাঠালে আবরাশ দুর্দান্ত হেড করেন, কিন্তু বল পোস্ট ছুঁয়ে বাইরে যায়। ওই আঘাত সামলিয়ে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেয় বাংলাদেশ। বিশেষ করে দুই উইংয়ে মানিক ও রোনান সুলিভান ভারতের ফুলব্যাকদের জন্য বড় দু’টো মাথা ব্যথা হয়ে ওঠেন।
১৩ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে সুলিভানের ফ্রি-কিকে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীর হেড লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি এবং সেটা পোস্টের বাইরে যায়। এরপরও বাংলাদেশ কয়েকবার আলাদা আক্রমণ তৈরি করে; ২৫ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে করা লম্বা থ্রো-ইনে চাপ বাড়ে এবং ইউসুফকে লক্ষ্য করে নেওয়া শটটি ভারতীয় গোলরক্ষক শক্ত হাতে সামলে নেন।
৩৫ মিনিটে ভারতের পাল্টা আক্রমণে বিপদ তৈরি হয়। একটা লং বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন বাহিরে এসেছিলেন, কিন্তু বলের নাগাল পাননি। তবুও ভারতীয় ফরোয়ার্ডরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধের যোগ করা দুই মিনিটে মুর্শেদ আলীর ডেলিভারি থেকে সুলিভান এক আকরোব্যাটিক হাফ-ভলি করেন, কিন্তু সেটিও পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ খেলায় তুলনামূলকভাবে বেশি সতর্কতা ও রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা নিয়ে নামলে ভারত বেশ কয়েকবার আক্রমণের সুযোগ তৈরি করে। ৫৩ মিনিটে ওমাং দোদুমের দূরপাল্লার ফ্রি-কিক ইসমাইল মাহিন ওয়েল সেভ করেন। ৬৪ মিনিটে আবারও একটি লম্বা থ্রো-ইনে মাহিন বক্স ছেড়ে বল সংগ্রহে ব্যর্থ হন, তবে ভারতের আক্রমণকারীরা কপালদেববন্ধ করে সেই সুযোগ নেবে না।
৬৬ মিনিটে কোচ মার্ক কক্স আক্রমণের চাপ বাড়াতে নাজমুল হুদাকে বদলি করে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের তরুণ তারকা ডেকলান সুলিভান নামান। সুলিভান মাঠে থাকলেও শেষ মুহুর্তে কাঙ্ক্ষিত গোল দেখা যায়নি। ৮৩ মিনিটে ভারতের সবচেয়ে পরিষ্কার সুযোগটি আসে; ঋষি সিং বক্সে ক্রস করে এবং পেছনে থাকা একজন ভারতীয় খেলোয়াড় জোরালো শট নেন, যা ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে কেটে যায়—বাংলাদেশ বড় ধাক্কায় পড়া রক্ষা পায়।
রেফারি ৯০ মিনিটে ৪ মিনিট যোগ করেন, তবু কোনো দলই নির্ণায়ক গোল করতে পারেনি। নিয়মিত সময় গোলশূন্য ড্র হওয়ায় ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়, যেখানে বাংলাদেশ ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে পেনাল্টি শুটআউটে ৪–৩ ব্যবধানে ভারতকে পরাজিত করে শিরোপা জয় করে। ইসমাইল মাহিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং খেলোয়াড়দের কোরাগ্রস্থ মানসিকতা এই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এই ফলের সঙ্গে বাংলাদেশ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ অঞ্চলে নিজেদের উচ্চ দায়িত্ববার্তা মজবুত করল এবং ধারাবাহিক সাফল্যের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

