জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে এসে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারগুলো রক্ষা করতে হলে শুধু কথায় নয়, মাঠে নামে লড়াই করতে হবে—এতে ড. ইউনূসকেও যুক্ত হতে হবে।
পবিত্র ওমরাহ শেষ করে শনিবার বেলা পৌনে দুইটায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের কাছে ব্যর্থ হয়েছে। যে সংস্কারগুলো করা হয়েছিল, সেগুলো ধরে রাখতে তাদেরও মাঠে নামতে হবে। তাই আমি ড. ইউনূসকে রাজপথে নামার আহ্বান জানাচ্ছি।’’
নাহিদ বলেন, সংস্কার কেন্দ্রীক রাজনীতির যে ধারা চলছে, তা অপ্রত্যাশিত নয়। তার বক্তব্যে, ‘‘এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পরে শুরু হয়ে ঐকমত্য কমিশন থেকে সৃষ্টি—এর পর থেকেই দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। আমরা নতুন সংবিধান চাইছিলাম, আর বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচন চায়।’’
তিনি আরও বলেন, এনসিপি আমূল পরিবর্তন চেয়েছিল, যেখানে বিএনপির ইচ্ছা ছিল পুরনো কাঠামো রেখে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা। কিন্তু নির্বাচনের পরে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ লাভের পর অন্য সবকিছুকে উপেক্ষা করছে। নাহিদের অভিযোগ, ‘‘তারা গণভোটের গণরায়কে বাতিল করে দিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ১০–১১টি অধ্যাদেশ সংসদে আনার বদলে বাতিলের পথে যাচ্ছে। এই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে আছে গুম প্রক্রিয়ার প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ—এগুলো বাতিল করলে স্বাধীন সিদ্ধান্তপরায়ণ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে নির্বাহী শাসনের একনায়কতান্ত্রিক শক্তিকেই ক্ষমতা দেবে।’’
নাহিদ বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী বলেও আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, ‘‘গত ১৬ বছরে তারা নানা অনাড়ম্বর আন্দোলন করেছে, কিন্তু মানুষের আস্থা তাদের নেতৃত্বে ছিল না—তার ফলে জনসমর্থন পাননি।’’
সংসদে সমাধান না পাওয়ায় রাজপথে নামার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘‘আমরা প্রথমে সংসদে সমাধান চেয়েছিলাম; যেহেতু সেখানে উপযুক্ত ফল মিলছে না, তাই জনভিত্তিক অবস্থান নিতে হচ্ছে। আমরা চাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হোক এবং যে অধ্যাদেশগুলো রয়েছে সেগুলোকে দ্রুত আইনে পরিণত করা হোক।’’ তিনি আরও সতর্ক করলেন যে সামনের সময়ে সাম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দায় সরকারকে পরিচালনা করার জন্য জনগণের আস্থা অপরিহার্য।
নাহিদ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদেরও কথা বলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‘যারা সেই সময় দায়িত্বে ছিলেন — ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ অন্যান্য উপদেষ্টা—তারা এই অধ্যাদেশগুলোর জন্য দায়িত্বশীল। এখন এগুলো বাতিল করা হচ্ছে; তাদের এগুলো নিয়ে কথা বলতে হবে, মুখ খুলতে হবে। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপিকে ক্ষমতা দিয়ে তারা চলে গেছেন—এবার যদি অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যায় এবং সংস্কার ধ্বংস হয়, তাহলে তারা নীরবuthe করে ফিরে গেলে চলবে না; জনগণের সামনে তাদের জবাব দিয়েই দাঁড়াতে হবে।’’
প্রসঙ্গত, নাহিদ গত ২৯ মার্চ রাতে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় থেকে রওনা হন এবং ৩০ মার্চ সৌদির জেদ্দায় পৌঁছেন। শনিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে তাঁকে দলের শান্তকর্মী এবং নেতারা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান; উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতারা।

