বিগত সরকারের উদ্যোগে নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলোকে এগিয়ে নিতে নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা কৌশলগত পথে এগোনোর জন্য একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (এনকপিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিশেষভাবে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, তাঁর মতে, সমাজের মানুষের জীবন ও রক্তের ওপর দিয়ে সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে কিন্তু এখন তারা আশা অনুযায়ী উন্নয়ন ও সংস্কার চালায়নি। নাহিদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ও সংস্কার কার্যক্রমের সাফল্য ধরে রাখতে জনগণের সরাসরি আন্দোলনে নামা দরকার। আমি ড. ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তিনি যেন শেখেন, সংগ্রাম করেন ও মাঠে নামেন।” বৃহস্পতিবার দুপুরে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে নাহিদ এসব কথাবার্তা বলেন। তিনি যোগ করেন, সংস্কার নিয়ে যা কিছু হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ প্রত্যাশিত ছিল না। তাঁর মতে, “এ এর জন্য শুরু হয়েছিল ৫ আগস্টের পর থেকে, যখন দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম, অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচন ও ক্ষমতা লাভের জন্য মূলত পুরোনো পন্থাগুলো 유지 করতে চেয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “বিএনপি এখন আর আগের মতো রাজনীতি করছে না। তারা সবকিছু উপেক্ষা করে অধিকাংশ আসন পেয়ে শেখের এক সংখ্যার সংসদে উন্নত সংস্কার ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করছে, যার মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার, বিচার বিভাগ, গুম এবং গোপন তথ্য বাতিলের ষড়যন্ত্র।” তিনি মন্তব্য করেন, “শুধু এই দল নয় বরং বিএনপি মূলত সংস্কারবিরোধী। গত ১৬ বছর তারা নানা নীতি-নৈতিকতা লঙ্ঘন করে আন্দোলন করেছে, কিন্তু মানুষের আস্থা আজ তাদের প্রতি কমে গেছে।” আন্দোলনের পক্ষে তিনি জানিয়েছেন, “আমরা সংসদে সমাধান চাইছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়ায় রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি। আমরা চাই, সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া চালু হোক এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইন হিসেবে রূপ দিতে হবে। বিশেষ করে মানবাধিকার, বিচারপ্রক্রিয়া ও গুমের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি পদক্ষেপ জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা যেন এই বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা এই অধ্যাদেশগুলো তৈরি করে ক্ষমতা দখল করে ফেলেছিল, এখন যখন এগুলো বাতিল হচ্ছে, তখন তাদের সঙ্গে থাকা ও কথা বলা জরুরি। জনগণের সামনে দাঁড়াতে হবে, তাদের প্রকৃত দায়িত্ব উন্নয়নে নিতে হবে।” এই প্রসঙ্গে, জানানো হয় যে, নাহিদ ইসলাম গত ২৯ মার্চ ওমরাহ পালনের জন্য দেশের বাইরে যান। তিনি ৩০ মার্চ সৌদি আরবে পৌঁছান এবং মর্যাদাপূর্ণ ওমরাহ সম্পন্ন করে শনিবার দেশে ফেরেন। তার সঙ্গে দলের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং বিমানবন্দরে তেজস্পর্শী স্বাগত জানানোর মাধ্যমে স্বাগত সুরে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়।

