চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ফের কমে ৩.০৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এখানকার আয়তকালে (অক্টোবর–ডিসেম্বর) হওয়া এই প্রবৃদ্ধি প্রতি প্রান্তিকে গত জুলাই–সেপ্টেম্বরের ৪.৯৬ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৩৫ শতাংশ। এসব তথ্য সোমবার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রে বলা আছে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা রপ্তানি-জাতীয় মূল্য এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। কিছু সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারির শেষের পরে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রভাবে গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম সরবরাহে বিঘœত সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্ব বাজারে জ্বালানি মূল্যের উত্থান ঘটিয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে দেশে জ্বালানির সংকটে ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয় এবং স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাপ্রাপ্ত হয়। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নতুন সরকারের সময়কালে অর্থসংকটের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পে পর্যাপ্ত অর্থায়ন প্রয়োজন মতো করা যাচ্ছে না—এসব মিলিয়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধি আঘাত পেয়েছে।
বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বরে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে—এখাতে বৃদ্ধি ছিল মাত্র ১.২৭ শতাংশ। তুলনায় কৃষিতে বৃদ্ধি ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪.৪৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতেই ছিল শক্তিশালী বৃদ্ধি—৬.৮২ শতাংশ; এক প্রান্তিকের ব্যবধানে এ খাতে প্রবৃদ্ধি অনেক কমে গেছে। কৃষি ও সেবা খাতে দ্বিতীয় প্রান্তিকে সামান্য উন্নতি হলেও শিল্প খাতের সংকোচ পুরো অর্থনীতির গতি সরাসরি鈥�প্রভাবিত করছে।
গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ২.০৫ শতাংশ; চতুর্মাসিকভাবে তা বাড়ে প্রথম প্রান্তিকে ৪.৯৬ শতাংশে এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবার কমে যায়। যেহেতু শিল্পখাত জিডিপিতে বড় অংশ ধারণ করে, তাই শিল্পখাতের নিম্নগতিই বছরের শেষ পর্যায়ে নির্ধারিত জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

