বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ফের কমে দাঁড়িয়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, যা গত প্রান্তিকের ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশের তুলনায় অনেক নিচে এবং এক বছর আগে একই সময়ে হওয়া ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশের থেকেও কম।
সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার কারণে গ্যাস ও তেলের দাম বাড়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরোধ এবং অন্যান্য অঞ্চলভিত্তিক সংঘাত জ্বালানি-পরিপল্লায় চাপ সৃষ্টি করেছে, যা সরবরাহে বিঘ্নতা ঘটিয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি সংকটের প্রভাবেই দেশে উৎপাদন ও সরবরাহচেইনে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ralent হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নতুন সরকারের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন ব্যাহত করেছে—এসব কারণ মিলিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
ক্ষেত্রভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত প্রান্তিকে সবচেয়ে নিচু প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে—শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি মাত্র ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্পখাতেই ছিল সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি—৬ দশমিক ৮২ শতাংশ; এক প্রান্তিকের ব্যবধানে শিল্পখাতে এরকম তীব্র স্লিপ অবশ্যই উদ্বেগের কারণ। কৃষি ও সেবা খাতে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কিছুটা বৃদ্ধি হলেও শিল্পখাতের ধীরগতি সার্বিক প্রবৃদ্ধিকে তন্নতন্ন করেছে।
এর আগে গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ০৫ শতাংশ; প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশে উঠেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই পতনYear‑end লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছে, কারণ জিডিপিতে সবচেয়ে বড় অবদানটিই আসে শিল্প খাত থেকে এবং ওই খাতের দুর্বলতা পুরো বছরের লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বিবিএসের প্রতিবেদন ও অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হলে এবং বিনিয়োগ ও ব্যয়ের পরিবেশ পুনরায় সক্রিয় না হলে সামনের মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি পুনরায় স্থিতিশীল হওয়া চ্যালেঞ্জিং হবে।

