জুলাই মাসের গণআন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বীরত্ব ও নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক ঐতিহাসিক রায় এবং পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছেন। বিচারকরা রায় পড়ার সময় উল্লেখ করেছেন, সে সময় পুলিশ সদস্যরা আবু সাঈদকে বুক পেতে দাঁড় করিয়েছিল, কিন্তু তারা সেদিন অমানুষে পরিণত হয়েছিল। বৃহস্পতিার সকাল ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে এই রায়ের সূচনা হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী রায় পড়ার শুরুতে বলেন, ‘আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয়ভাবেই দাঁড়িয়েছিলেন। সে বিশ্বাস করেছিল, সামনে থাকা মানুষগুলো তার শত্রু নয়, তারা তার ক্ষতি করবে না। কিন্তু সে তখন বুঝতে পারেনি, তারা অমানুষ হয়ে গেছে।’ এদিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মামলার সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ শুরু হয়, যা বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর বিবৃত করেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ের সময় অষ্টম আসামিদের মধ্যে ছয়জনকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে সাবেক এএসআই আমির হোসেন, শরিফুল ইসলাম (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর), সুজন চন্দ্র রায় (কনস্টেবল), ছাত্রলীগ নেতা ইমরাস চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ রয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এর সামনে পুলিশ গুলিতে শহীদ হন আবু সাঈদ, দুই হাত প্রসারিত অবস্থায়। তার বীরত্বের এই মুহূর্তের ভিডিওটি বিশ্বজুড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। আজকের এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওই আত্মোৎসর্গের বিচার স্বীকৃতির পথে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

