ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরলোকে চলে গেলেন। তাঁর মৃত্যুতে সংগীত অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপমহাদেশের শিল্পীর পক্ষে শোকার্ত রুনা লায়লা ব্যক্ত করেছেন গভীর অনুভূতি। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ‘পৃথিবীর দুই পরম কিংবদন্তি শিল্পী একের পর এক চলে যাচ্ছে—লতা মুঙ্গেশকর ২০২২ সালে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছিলেন, আর এখন আশা ভোঁসলে আমাদের ছেড়ে গেছেন। এই ধরনের শিল্পী যেন আর কখনো জন্ম নেনে। আমার একটিই মনে হচ্ছে, পৃথিবী এখন পুরোপুরি শূন্য।’ নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতির কথাতেও প্রকাশ করেছেন তাঁর বুকের গভীর দুঃখ, ‘তারা দুজনেই আমাকে মা’র মতো করে ভালোবাসতেন। এই সম্পর্কের কথা বলার মতো শব্দ আমার কাছে নেই। শেষবার আমার দেখা হয়েছিল যখন আমার লেখা গানের রেকর্ডিং চলছিল—‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসবে না’—তার সময়। এরপর বহুবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু এতদিন এর পরে আবার কথা বলার সুযোগ হয়নি। শেষ সময়টিতে কথাও বলতে পারেননি।’ রুনা লায়লা বলেন, ‘যখন মনে হয়েছিল দিদিকে ফোন করি, যদি তখনই করতাম, তাহলে হয়তো আজ এই আফসোসের মধ্য দিয়ে জীবন কাটাতাম না। এই আক্ষেপটা লুকাতে পারছি না।’ রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা ভোঁসলে। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হয়। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় বুকের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন দীর্ঘ দিন। শেষমেশ, টানা সাত দশকের বেশি সময় সংগীতাঙ্গনে রাজত্ব করে গিয়েছেন আশা ভোঁসলে। তাঁর গাওয়া হাজারো গান আর অনবদ্য সুরের মাধ্যমে তিনি হয়েছেন এক প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার অবিরাম উৎস। তাঁর এ অকাল প্রস্থানে এক গভীর অধ্যায়ের অবসান ঘটল শান্তিকে।

