সুন্দরবনে পৃথক দু‑ঘটনায় মোট সাতজন মৌয়ালকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ; এখনও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন। এক ঘটনার সময় ঝড়ে পথ হারিয়ে ভারতের অংশে ভেসে গিয়ে পাঁচ মৌয়ালের মধ্যে চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, আর অন্য ঘটনায় নৌকাডুবির চারজনের মধ্যে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ।
পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারি রেঞ্জ কনজারভেটর (এসি এফ) মোঃ মশিউর রহমান জানান, মধু সংগ্রহে গেলেও গত ৮ এপ্রিল কালবৈশাখী ঝড়ে তারা পথ হারিয়ে ভারতের অংশে পৌঁছে যান। উদ্ধারকৃত চারজন হলেন— শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বিড়ালাক্ষীর ফেরদৌস মোল্লার ছেলে রাশিদুল ইসলাম (৩৬), একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে তৈবুর রহমান (২৩), বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের শুকুর আলী সরদার (৩৭) এবং কাশিমাড়ী ইউনিয়নের গোদাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ মোল্লা (৬৪)।
উদ্ধারকৃতরা জানায়, তারা বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে পাস নিয়ে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে যাওয়ার সময় দাড়গাং এলাকায় কাচিকাটা যাওয়ার পথে আচমকা কালবৈশাখীর কবলে পড়ে তাদের ট্রলারটি দিক হারিয়ে রায়মঙ্গল নদীর পশ্চিম তীরে গিয়ে ভেসে যায়, যা ভারতের অংশ। পরদিন সকালে নদী শান্ত হলে বাংলাদেশে ফিরতে চেষ্টায় নেমে তাদের নৌযানটি ভারতের বন বিভাগের হাতে আটক হয় এবং বাকি চারজন বনাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দুই দিন পায়ে হেঁটেই তারা আবার একত্রিত হওয়ার পরও ভারতীয় বন বিভাগের টহলের কারণে দেশে ফিরতে ব্যর্থ হন। পরে রাতের আঁধারে একটি অস্থায়ী ভেলা বানিয়ে তারা গাড়াল নদী পাড়ি দিয়ে ছায়া নদীর তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। প্রায় তিন দিন না খেয়ে দুরবস্থায় পড়ে তাদের হলদেবুনিয়া টহল ফাইবার বোট উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাদ্য দেয় এবং অফিসে নিয়ে এসে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধারকৃতরা বলেছেন, তাদের সঙ্গে থাকা শওকাত আলী গাজী ভারতের বন বিভাগের কাছে আটক আছে বলে দাবি করেন। শওকাত আলী গাজী শ্যামনগরের আটুলিয়া ইউনিয়নের ছোটকুপট গ্রামের অবের আলী গাজীর ছেলে।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, পাঁচজন ১ এপ্রিল পাস নিয়ে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে গিয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে বন বিভাগ তৎপর হয়ে মঙ্গলবার ভোরে চারজনকে উদ্ধার করে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে আত্মীয়-স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ৮ এপ্রিল কাচিকাটা এলাকায় ঘটে যাওয়া নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চার জনের মধ্যে তিন জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে বনবিভাগ জানিয়েছে। এই তিনজন হলেন— শ্যামনগর উপজেলার গোদাড়া এলাকার ওহিদ মোল্লার ছেলে ওলিউর রহমান, আব্দুর রহমান গাজীর ছেলে মিকাইল হোসেন এবং আইউব আলীর ছেলে ইকরামুল কবির। তবে একই গ্রামের আকবর হোসেন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
বন বিভাগের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উদ্ধারকৃতদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে এবং তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চলেছে।

