ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি) বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে তারা মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ—প্রায় ২১,৫০০ জন—ছাঁটাই করবে। সিদ্ধান্তটি জানানো হয় লন্ডনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অল-স্টাফ বৈঠকে।
বিবিসি জানিয়েছে যে এই পদক্ষেপ আর্থিক চাপ কাটাতে নেওয়া হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে প্রতিষ্ঠানটি আগামীতে ৬০ কোটি পাউন্ড (প্রায় ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ড) সাশ্রয়ের লক্ষ্য রেখেছে এবং বাজেট সংকোচের প্রেক্ষিতে বড় ধরনের কর্মীসংখ্যা হ্রাস বিবেচনায় আছে। তৎকালীন মহাপরিচালক টিম ডেভিও সেই সময় বলেছিলেন, এ লক্ষ্য পূরণের জন্য কর্মীছাঁটাই একটি সম্ভাবনাময় উপায়।
টিম ডেভি গত নভেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প, গাজা ও ট্রান্সজেন্ডার সম্পর্কিত কভারেজ নিয়ে ওঠা বিতর্কের পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং ২ এপ্রিল বিবিসি ছাড়েন। তার পর থেকে রদ্রি তালফান ডেভিস দায়িত্বে রয়েছেন; গতকাল তিনি বৈঠকে ঘোষণা করে ছাঁটাই কার্যক্রমের দায়িত্বের কথা জানান। ডেভিস একই সঙ্গে কর্মীদের একটি ইমেইলও পাঠান, যেখানে তিনি বলেন প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপে আছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ইমেইলে রদ্রি তালফান ডেভিস আরও বলেন, ‘‘সরল ভাষায় বলা যায়, আমাদের ব্যয় ও আয়র মধ্যে ফাঁক দিনের পর দিন বাড়ছে। প্রোডাকশন সংক্রান্ত ব্যয় বেড়েছে, লাইসেন্স ফি ও বাণিজ্যিক আয়ে চাপ আছে, এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিও অনিশ্চিত।’’ তিনি উল্লেখ করেছেন যে বিবিসির বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৫০০ কোটি পাউন্ড এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে অন্তত ৫০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয় করা প্রয়োজন, যার বড় অংশ ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পড়বে।
বিবিসির এই ঘোষণায় কাজের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়বে হাজার হাজার কর্মী। ব্রিটেনের সম্প্রচার সাংবাদিক ও বিনোদন-কমিউনিকেশন-থিয়েটার কর্মীদের ইউনিয়ন বেকটুর নেতা ফিলিপ্পা চাইল্ডস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘‘এ মাত্রার ছাঁটাই সবার জন্য ধ্বংসাত্মক হবে। যেসব কর্মী ছাঁটাই হচ্ছেন তারা গভীর অনিশ্চয়তায় পড়বেন, পাশাপাশি বিবিসির সামগ্রিক সংবাদকভারেজেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বিবিসি আমাদের জাতীয় সংবাদমাধ্যম — সরকারের উচিত এখানে আরও সহায়তা দেওয়া।’’
বিবিসি সূত্রে খবর, নতুন মহাপরিচালক হিসেবে ১৮ মে পদে যোগ দেবেন ব্যবসায়ী ম্যাথিউ জন (ম্যাট) ব্রিটিন; তিনি আসার এক মাস আগেই এই ছাঁটাই ঘোষণার ঘটনা ঘটল। বিবিসির ভবিষ্যত কাঠামো ও কর্মীসংখ্যা কোলাহল নিরসনে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

