চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় ঘটে গেছে এক বিচ্ছিন্ন ভয়ঙ্কর ঘটনা যেখানে শালিসের মাঝখানে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর। এটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুর তিনটার দিকে খৈয়াছড়া ইউনিয়নের উত্তর আমবাড়ি এলাকার নিজ বাড়িতে। নিহতের নাম শফিউল আলম, বয়স ৫৫ বছর। তিনি একজন কৃষক এবং এই গ্রামের মৃত নূর বক্সের ছেলে। তাঁর বড় ভাই শামসুল আলমের শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে মারধর করানোই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় এই সালিস।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, শফিউল আলমের বড় ভাই শামসুল আলমের শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে রয়েছে, যার নাম ফকির আহমেদ, বয়স ২৫। গতকাল সেই ছেলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে ওই এলাকায় এক সালিস ডাকা হয়। কিন্তু সেই বৈঠকের দোরগোড়ায় প্রবেশ করে ঘটনাটি অন্যরকম রূপ নেয়। কথাবার্তার এক পর্যায়ে রিপন, নূর মোহাম্মদ ও মেহেদী হাসানের মতো যুবকেরা একত্রিত হয়ে শফিউল আলমের ওপর হামলা চালায়। তারা দেশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে। আঘাতের ফলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাকে প্রথমে মিরসরাই উপজেলা সদরের এক বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু কিছুক্ষণ পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক মাহমুদা আক্তার জানান, হাসপাতালে আনলোপরে আমরা দেখেছি তিনি মৃত অবস্থায়। দূর থেকে দেখতে পাওয়া গেছে যে মাথার মধ্যে গুরুতর আঘাত লেগেছে, তবে বাহ্যিক রক্তক্ষরণ হয়নি। মনে করা হয়, মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হতে পারে।
নিহত শফিউল আলমের বড় ভাই নুরুল আলম বলেন, ‘আমার ভাই খুবই সরল সহজ মানুষ। কৃষি কাজের মাধ্যমে তার সংসার চলে। অভিযোগ, সালিসের সময় রিপন, নূর মোহাম্মদ ও মেহেদী হাসান একযোগে আমাদের ওপর হামলা চালায়। নূর মোহাম্মদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার ভাইকে আঘাত করে। আমি এই নির্মম হত্যার বিচার চাই।’
মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘সালিসের মাঝখানে হামলার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখনো কোনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

