সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক এই ভার্চুয়াল যুগে প্রবেশ করলেও প্রথমে আমাদের শিক্ষাকে পুঁথিগত শিক্ষায় সমৃদ্ধ করতে হবে। কারণ, বই-ই আমাদের সঠিক জ্ঞান, মূল্যবোধ ও চিন্তাশক্তি গড়ে তোলে। শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, জীবনের জন্য সত্যিকার শিক্ষা হচ্ছে বই। সুতরাং, সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সকালে রূপসার নৈহাটী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় আয়োজিত সংবর্ধনা, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের পবিত্র কেন্দ্র। সেখানে শিক্ষামূলক কার্যক্রম সর্বাগ্রে গুরুত্ব পাবে, কোনও রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ম, বর্ণ, দলমতের বিভেদ ভুলে সবাইের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নির্মাতা। আপনারাই হবে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। তাই এখনই নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও নৈতিকতার সমন্বয়েই একজন সত্যিকারের মানুষ গড়ে উঠে। মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থাকুন এবং লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যান। এভাবেই আপনি সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে।
অতঃপর তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আপনাদের মাধ্যমে আমি যে সম্মান ও ভালোবাসা পেয়েছি, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। এই বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমি সব সময় পাশে থাকব। আপনারাও যদি আমাকে সহযোগিতা করেন, তাহলে ভবিষ্যতেও আমি আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যেতে পারবো।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন রূপসা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ার উল কুদ্দুস, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জিব সরকার সভাপতিত্ব করেন, এবং অনুষ্ঠানের পরিচালনা করেন খুলনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম। অতিথির বক্তৃতা করেন খালা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক এনামুল হক সজল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হারুন অর রশীদ, জেলা বিএনপি’র সদস্য আনিসুর রহমান বিশ্বাস ও অন্যান্য।
প্রতিষ্ঠানটির সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল, প্রকৌশলী সুখেন রায়, মোঃ শরিফুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা হেলাল, মোঃ মোজাফফর হোসেনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠান শুরুতে, যারা প্রতিষ্ঠানকে অবদান রেখেছেন এবং প্রয়াত হয়েছেন, তাঁদের আত্মার মঙ্গল কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া মোনাজাত হয়।
অন্যদিকে, এমপি আজিজুল বারী হেলাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকাকালীন তেরখাদা উপজেলায় সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

