মিরপুর শের-ই-বাংলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে জয় হাসির হাতছানি দেখালেও শেষ পর্যন্ত হতাশায় ডুবেছে বাংলাদেশ। সাইফ হাসান, লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের লড়াকু ইনিংসগুলোর পরও ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাবে টাইগাররা হার মেনে নিতে হয় এবং তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ পিছিয়ে পড়েছে।
নিউজিল্যান্ড টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান সংগ্রহ করে। শুরুটা তাদের জন্য একটু ঝুঁকিপূর্ণ ছিল; সপ্তম ওভারে শরিফুল ইসলাম নিক কেলিকে ফেরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন। তারপর হেনরি নিকলস ও উইল ইয়ং ৭৩ রানের জুটিতে দলের ভিত মজবুত করেন। পরিপক্ক ইনিংস সাজিয়েছেন ডিন ফক্সক্রফটও—তার অর্ধশতকই দলের রানকে পরিপূর্ণতা দিয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন দু’টি করে উইকেট নেন, তাসকিন আহমেদও দু’টি শিকার করেন এবং মেহেদী হাসান মিরাজ এক বার নিয়েছেন। ফলে ৫০ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ২৪৭/৮।
জবাবে বাংলাদেশ শুরুতেই ধাক্কা খায়—তানজিদ হাসান, তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্রুত ফেরায় খেলার সূচনা কঠিন করে তোলে। কিন্তু তৃতীয় উইকেটে সাইফ হাসান (৫৭, ৭৬ বল) ও লিটন দাস (৪৬, ৬৮ বল) ৯৩ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামলান এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
সাইফের বিদায়ের পর লিটনও ফেরেন এবং পরে আফিফ হোসেনের সঙ্গে তাওহীদ হৃদয় চেষ্টা চালালেও ততটা সক্রিয়তার ছাপ সেভাবে দেখা যায়নি—আফিফ ধীর গতিতে ২৭ রান করে আউট হন। তাওহীদের ৫৫ রানের আত্মবিশ্বাসী ইনিংস বাংলাদেশকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পারফরম্যান্সগুলো মিস করে টাইগাররা ৪৮.৩ ওভারেই ২২১ রানে গুটিয়ে যায়।
ম্যাচ জিতে নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম জয়টি তুলে নিয়েছে, আর বাংলাদেশ ঠিক করে নেয় আগামী ম্যাচগুলোতে সমতা ফেরাতে সিরিজটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে হবে। পরবর্তী ম্যাচে টাইগারদের সামনে রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ।

