চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-مار্চে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় কানাডা জাতীয় দলের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া ফিক্সিং কেলেঙ্কারির তদন্তে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিসরে বিস্তৃত এই তদন্তের মধ্যে নতুন করে বেশ কয়েকটি চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ টেলিভিশন এবং সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইর নেতৃত্বে একটি গ্যাং বিশ্বকাপের কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সরাসরি ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইসিসি বর্তমানে এই গ্যাংয়ের সঙ্গে কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম সন্দেহের জন্ম হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রুপ ম্যাচে বাজওয়ার অস্বাভাবিক ও ব্যয়বহুল একটি ওভার দেখানোর পর। এর পরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ডাকার পাশাপাশি তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয়। কানাডিয়ান জাতীয় সম্প্রচার কেন্দ্র সিবিসির এক রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে যে, লরেন্স বিষ্ণোইর গ্যাংয়ের সঙ্গে তার যোগসাজশের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এই গ্যাং একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত এবং এর বিরুদ্ধে সিধু মুসেওয়ালা হত্যার অভিযোগও রয়েছে।
প্রতিবেদন আরও জানিয়েছে, বাজওয়ার অকালশন অধিনায়ক হওয়ার পেছনে এই গ্যাংয়ের মূল ভূমিকা ছিল। বলাবাহুল্য, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারে শহরের এক রেস্টুরেন্টে প্রায় ২৫ জন ক্রিকেটার জড়ো হয়েছিলেন, যেখানে এক সাংবাদিকতা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, দুই ব্যক্তি নিজেকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন — যদি দিলপ্রীত বাজওয়া ও অন্য একজন তরুণ ক্রিকেটারের উন্নতিতে বাধা দেওয়া হয়, তবে তাদের পরিবার ভয়ানক পরিণতিতে পতিত হবে।
এছাড়াও ‘নোয়া’ নামে এক ব্যক্তি এই অপপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এই সিন্ডিকেট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের পছন্দের লোক বসানোর জন্য হুমকি-ধমকি চালাচ্ছিল। বিশেষ করে, বাজওয়াকে বিশ্বকাপের কয়েক সপ্তাহ আগে অধিনায়ক পদে বসানোর সিদ্ধান্ত ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে; অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের জন্য হুমকি দিয়েই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে এবং নেতৃত্বে বসানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে প্রকাশ, ‘নোয়া’ বলেছেন, “আমি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলাম। ৪০ মিনিটের মধ্যে একই নম্বর থেকে একটি মেসেজ পাই, যেখানে একটি ছবি ছিল, যা আমাকে আতঙ্কিত করে তোলে।” সিবিসি প্রতিবেদনে কানাডার ক্রিকেটের বর্তমান সভাপতি অরবিন্দর খোসার নামও উঠে এসেছে। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এ সব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা তাঁর সুনাম নষ্ট করার জন্য।
তদন্তে জানা গেছে, তিনি সাবেক সভাপতি আমজাদ বাজওয়ার সঙ্গে রেস্টুরেন্টে একটি ঘটনায় আলোচনা করেছিলেন, যদিও আমজাদ বিষয়টি অজানা থাকার দাবি করেন। এ ছাড়াও বলা হয়েছে, তিনি ওই সময় বাজওয়াকে অধিনায়ক করার প্রস্তাবের একজন মূল উপদেষ্টা ছিলেন। ‘নোয়া’ বলছেন, “আমার মনে হয় তারা ম্যাচ ফিক্সিং করে অর্থ উপার্জনের জন্য এই পরিকল্পনা করেছিল। অন্যথায়, এত দূর এগিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ কী?”
আরও জানা যায়, কানাডার সাবেক কোচ খুররম চোহান ও অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ম্যাচের কিছু অংশ ফিক্সিংয়ের জন্য তদ্বির চালানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিভিন্ন সহিংস ঘটনা ও চাঁদাবাজির পর কানাডার সরকার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।

