দেশের সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা নতুন অর্ডার স্থগিত করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) এর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় অনেক ক্রেতা বাংলাদেশে নতুন অর্ডার দিতে সতর্ক হয়েছেন। এর ফলে তৈরি পোশাক শিল্পসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারি খাতে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাক-বাজেট আলোচনা চলাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিসিআই সভাপতি জানান, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে, আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসে সম্ভাব্য অনেক বড় অর্ডার ইতোমধ্যে ধীরগতিতে জমা পড়ছে। কিছু বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান নেতিবাচক বার্তা পাঠাতে শুরু করেছে এবং কিছু অর্ডার বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে, যেমন ভারতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের ঢাকা অফিসগুলো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চেষ্টা করছে, কিন্তু শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন অর্ডার দিতে হাত ধরে ফেলছেন। এর পাশাপাশি, বর্তমান কর কাঠামো ব্যবসার জন্য বেশ অপ্রোডাকটিভ বলে তিনি অস্বস্তি প্রকাশ করেন। আনোয়ার-উল আলম বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের নিয়ম অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য। এতে অনেকেরই লাভ না থাকলেও কর দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের টিকে থাকা কঠিন করে তুলছে।
তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য করের কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেন এবং রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোেও আহ্বান জানান। তবে, এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমন খান এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেছেন, কর কমানোর ধারণা ব্যবসার জন্য সুবিধাজনক নয়।
আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে বিসিআই সভাপতি বলেছেন, কর যাচাইয়ের নাম করে যেকোনো ব্যবসায়ীর কম্পিউটার বা নথিপত্র জব্দ করার অবারিত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এতে ব্যবসার পরিবেশে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দাবি করে, ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বন্ধ করতে হবে। এছাড়া, করের বোঝা কমিয়ে ব্যবসা-সহায়ক কর কাঠামো গড়ে তোলার জন্য তাদের আহ্বান জানানো হয়। শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হয় এবং কর কাঠামো সহজ করা না হয়, তবে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

