যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পা এয়ারিয়ার ইসলামিক সোসাইটি অ্যান্ড কনফারেন্স সেন্টারে এই জানাজা সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিও এতে অংশগ্রহণ করেন।
অপরদিকে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। মরদেহটি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রথমে দুবাই নেওয়া হবে, এরপর সেটি সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটে ৯ মে ঢাকায় পৌঁছাবে।
জেনাজার আগে জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। কিছু দিন পরে, হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে তাদের দেহাবশেষ বিভিন্ন দফায় উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে জামিলের রুমমেট ও মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অন্ধকার এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহের জন্য তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চান কানাডার আর্জেন্টিনার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় নতুন করে গভীর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, নিহত এই দুই শিক্ষার্থীকে করতে যাচ্ছে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি, যা তারা পেয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পক্ষ থেকে। আগামী ৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে তাদের হতদরিদ্র পরিবারের জন্য এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। এই তথ্য মঙ্গলবার (৫ মে) অফিসিয়ালি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে একটি চিঠির মাধ্যমে।
একই চিঠিতে নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের প্রতিনিধির জন্য উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জামিল আহমেদ লিমন (২৭), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছেন। তিনি ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন।
সাথে নিখোঁজ হন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭), যিনি যুক্তরাষ্ট্রে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছিলেন।

