বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জুস কেনাকে কেন্দ্র করে সড়াসড়ি কাটা কথাকাটির পর মোঃ মোজাহিদ মোল্লা (৪২) নামে এক মুদি দোকানীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের হিজলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মোজাহিদ মোল্লা ওই গ্রামের সরোয়ার মোল্লার ছেলে এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের হিজলা ইউনিয়ন শাখার ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয় ও দৃষ্টান্তশীল রাজনৈতিক নেতারা শোক জানিয়েছেন; এগুচ্ছে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান ও উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দের সমবেদনার কথা।
পুলিশ, হাসপাতালে অনলাইন খবর ও এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মোজাহিদ দোকানের সামনে বসে ছিলেন। তখন বায়জিদ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে একটি জুস কিনে এক কস ঢালি নিয়ে বলেন জুসটি ভালো লাগছে না। দোকানদার মোজাহিদ জুসটি চেখে জানায় এটা খারাপ না—এমনই কথাকাটাকাটির সূত্র ধরে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়।
এক পর্যায়ে বায়জিদ হাতে থাকা হাসুয়া (ঘাস কাটার ধরনের কাস্তে) দিয়ে মোজাহিদের গলার কাছে কোপ দেন। কোপ লেগে মোজাহিদ গুরুতর আহত হন। উত্তেজিত জনতা পরে বায়জিদের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা আহত মোজাহিদকে দ্রুত চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে আহত বায়জিদকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চিতলমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার পর পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রতিযোগিতা বিধিতে বায়জিদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে, বায়জিদ খাপাড়া গ্রামের বাদশা শেখের ছেলে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সংঘটিত ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশ অতিরিক্ত সতর্ক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
নিহত মোজাহিদ মোল্লার একজন স্ত্রী এবং তিনটি কন্যাসহ—হাফিজ, ফারিয়া ও ফারহানা—নামে তিনটি শিশু সন্তান রয়েছে। স্থানীয় সমাজ ও রাজনৈতিক নেতারা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধান করছে এবং তদন্ত চলমান আছে।

