রাওয়ালপিন্ডির স্মৃতি পাকিস্তানের জন্য খুব সুখকর নয়। নিজেদের মাঠে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও তারা সেই ম্যাচগুলো হেরে গিয়েছিল, যার ফলস্বরূপ সিরিজও হেরেছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফল্য এই সিরিজে পাকিস্তানের জন্য ছিল এক বড় ধাক্কা। তবে মিরপুরে নতুন সিরিজ শুরুর আগে পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক সালমান আলী আগা সেই অতীতকে ‘প্রতিশোধ’ বলতে অস্বীকার করেছেন। তিনি স্পষ্ট কয়েছেন, পাকিস্তান দলের মধ্যে প্রতিশোধের ভাষা নেই, বরং বাংলাদেশের কৃতিত্বকে স্বীকার করতে চান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে প্রতিশোধ-জাতীয় কোনও শব্দের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দরকার নেই। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ যে কেমন প্রস্তুতি নিয়েছিল, তাদের কৃতিত্বই স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।’ পাকিস্তান ভেবেছিল, নিজেদের হোম কন্ডিশনে বাংলাদেশকে চাপের মধ্যে রাখতে পারবে, কিন্তু ম্যাচের ভিতরে বাংলাদেশ বারবার ফিরে এসেছে। বিশেষ করে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানো পরেও তারা লড়াই চালিয়ে ম্যাচ জিতেছে, যা দিয়ে বাংলাদেশের মানসিক দৃঢ়তা এবং ক্রিকেট দক্ষতার প্রমাণ পাওয়া যায়। সালমান মনে করেন, বাংলাদেশের এই লড়াকু মনোভাবই তাদের উন্নতির প্রধান চাবিকাঠি। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাবছিলাম, এই কন্ডিশনে আমরা বাংলাদেশকে হারাতে পারব। কিন্তু তারা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে এবং সব পরিস্থিতি থেকে ফিরে এসেছে। ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পরও তারা লড়াই করে ম্যাচ জিতেছে, যা তাদের স্কিল এবং মানসিক শক্তির সাক্ষ্য দেয়।’ এই অভিজ্ঞতা পাকিস্তানকে আরও সচেতন ও সতর্ক করে তুলেছে। সালমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে কোনওভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। তাঁর মতে, ‘আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রক্রিয়া, কেমনভাবে খেলছি, প্রতিপক্ষকে গুরুত্ব দেওয়া। প্রতিশোধের শব্দের সঙ্গে আমরা যুক্ত নই। আমাদের লক্ষ্য হলো সঠিক পরিকল্পনা ও সঠিক মানের ক্রিকেট খেলা।’ পাকিস্তান দলের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ শুধু ম্যাচ জেতা নয়, জেতার পর অবস্থান ধরে রেখে ম্যাচ শেষ করা। আগের সিরিজে এই জায়গায় তারা ধাক্কা খেয়েছিল, এবার সালমান চান, দল যদি ভালো অবস্থানে যায় তবে সেটি আর হারাতে না হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, যখন জেতার কন্ডিশনে যাব, তখন ম্যাচ শেষ করতে পারি এবং উচ্চ মানের ক্রিকেট উপহার দিতে পারি।’ বর্তমানে বাংলাদেশ দলকে তিনি একজন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন, যাদের ব্যাটিং, পেস বোলিং ও স্পিন বিভাগই বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। আগের সিরিজের দলের সঙ্গে বর্তমান দলকে তিনি কাছাকাছি মনে করেন। সালমানের ভাষায়, ‘বাংলাদেশ এখনো খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, তাদের স্কিল বেশ। ব্যাটিং, পেস ও স্পিন—সব বিভাগে তারা শক্তিশালী।’ পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে তিনি খুব আত্মবিশ্বাসী। মিডল অর্ডারকে দলের ইঞ্জিনরুম হিসেবে দেখা হচ্ছে যার মধ্যে বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সৌদ শাকিল ও নিজে সালমান আলী আগা খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এই স্থিতিশীলতা পাকিস্তানের জন্য বেশ মূল্যবান। উর্দুতে দেওয়া এক আলাদা আলোচনায় সালমান বলেছেন, ‘মিডল অর্ডার হলো ইঞ্জিনরুম। বাবর, রিজওয়ান, সৌদ শাকিল ও আমি বেশ কিছুদিন ধরে একসঙ্গে খেলছি। টপ অর্ডার পরিবর্তন এসেছে নানা কারণ—for ইনজুরি বা অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে।’ এছাড়া, ইমাম-উল-হকের টেস্ট দলে ফেরার বিষয়েও তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘ইমাম গত তিন-চার বছরে বেশ ধারাবাহিক ছিলেন, অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাকে দলে ফিরিয়ে আনা পাকিস্তানের জন্য একটি ইতিবাচক দিক, কারণ তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়।’ তবে মিরপুরের মাঠে কাজটি সহজ হবে না বলেও তিনি স্বীকার করেন। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে তিনি খুবই ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী মনে করেন, যেখানে বাঁহাতি ও ডানহাতি পেসাররা গতি এবং স্কিলের দিক থেকে সমান সক্ষম। সালমান বলেন, ‘বাংলাদেশের আক্রমণ খুবই ভারসাম্যপূর্ণ। বাঁহাতি পেসার, ডানহাতি পেসার, গতি ও স্কিল—সব মিলিয়ে তারা খুবই ভালো আক্রমণ। সম্ভবত, এটি এখন পর্যন্ত দেখার সবচেয়ে প্রাণবন্ত বাংলাদেশি আক্রমণ।’
