গতকালই বাংলাদেশের টেস্ট দলের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি নিশ্চিত করেছিলেন যে, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের মাঝ দিয়ে তারা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল নিয়ে ভাবনায় থাকবেন। তবে বাংলাদেশের লক্ষ্য এখনো উচ্চশিরে নেই। তারা আপাতত চাইছে চক্রের চলমান পর্বে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে চার বা পাঁচ নম্বরের মধ্যে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে।
বাংলাদেশের জন্য এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৩-২৫ চক্র ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় তারা পয়েন্ট টেবিলের সপ্তম স্থান অর্জন করে, যেখানে তাদের নিচে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান। এই চক্রে বাংলাদেশ মোট চারটি টেস্ট জিতেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় এবং ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়। এখানেই শুধু নয়, নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি টেস্টও তারা জিতেছে। এই ধারাবাহিক সফলতা বাংলাদেশের স্বপ্নস্মরণীয় উন্নতির ধারাকে শক্তিশালী করে, আর তারা এই উত্তেজনাপূর্ণ সিরিজের মাধ্যমে আরও ভালো ফলাফল করতে চায়। তার জন্য শুরুটা করতে তারা পরিকল্পিতভাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে আগামি কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ঘরের মাঠের সিরিজকেই মূল লক্ষ্য করছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বললেন, আমি মনে করি, গত দুই বছরে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি এবং ট্যাবলেত ৭ নম্বর স্থানে শেষ করার this একটা গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এটি আমাদের জন্য একটি ধাপে ধাপে উন্নতির ফল। তিনি আরও বলেন, এবার আমাদের লক্ষ্য অনেক বেশি স্পষ্ট, যদি পারফর্মেন্স আরও একটু বাড়াতে পারি এবং চার বা পাঁচ নম্বরের মধ্যে শেষ করতে পারি, তাহলে সেটা আমার জন্য খুবই প্রশংসনীয় হবে।
শান্ত জানিয়েছেন, চলতি বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের পাশাপাশি তারা আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ খেলবে। আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ, যেখানে মোট দুইটি টেস্ট হবে। এর ফলে প্রথম টেস্ট ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে, পরেরটি ২২ আগস্ট ম্যাকায়টে। এরপর নভেম্বরে তারা সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্ট খেলবে, প্রথমটি ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গে এবং দ্বিতীয়টি ২৩ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নে।
অস্ট্রেলিয়া এবং সাউথ আফ্রিকার কন্ডিশনে নিয়মিত না খেলার কারণে এই সিরিজগুলো হবে বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করেন শান্ত। তাই তিনি আরও বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছেন ঘরের মাঠের সিরিজগুলোতে, যেখানে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, আমাদের দলের মধ্যে উপস্থিত রয়েছে পেস, স্পিন এবং ব্যাটিং বিভাগে ভারসাম্যপূর্ণ শক্তি। এই সব কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতেই হবে, তবে আমি নিশ্চিত, আমাদের দল অনেক শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক।
