জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী কন্যা, ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, গাজীপুরের মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফ কান্তি এবং ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের প্রায় চার হাজার সদস্য। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন।এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের প্রায় চার হাজার সদস্যের মধ্যে দাবি করা হয়, এ সময় তারা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তবে সবাই উপস্থিত ছিলেন না; সংবাদ সম্মেলনে এ टोलीের উপস্থিত ছিলেন প্রায় পঞ্চাশ সদস্য।সংবাদ সম্মেলনে হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন ব্রেক করে বলেন, “হাজী শরীয়তুল্লাহর উত্তরসূরি হওয়ার পরও আমি একনিষ্ঠভাবে এনসিপিতে কাজ করবো।” তিনি বলেন, “হাজী শরীয়তুল্লাহ কাউকে রাজা বা নেতা করতে আসেননি, তিনি সাধারণ কৃষক জনগণের নেতা ছিলেন। নেতার আর রাজা হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমরা কাউকে ইবাদত করি না। আমরা দল করি যাতে আমাদের নেতা যদি ভুল করে, তাকেও ফিরিয়ে আনতে পারি। এই দল হলো আমাদের সত্যের পথে থাকার অবলম্বন।”এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “দেশের পথ হারানো রাজনীতির হাল ধরবে এনসিপি। সংসদে বিএনপি প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করছে, এর ফল ভালো হবে না। আমরা অতি দ্রুত গণভোটের অভূতপূর্ব রায় বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “সরকার স্থানীয় কেন্দ্রগুলোকে নিজেদের ভাগ-বাটোয়ারা ও লুটপাটের জন্য ব্যবহার করছে। দ্রুত সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌর নির্বাচন দিতে হবে, বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং সংসদে বুক ফুলিয়ে দাবি করছে। এই পরিস্থিতি আমাদের জন্য লজ্জাজনক। যারা এভাবে প্রতারণা করেছে, তারা জনগণের রুষ্টির মুখোমুখি হবে।”সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, “তাদের বলদয় হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সারা দেশে প্রশাসক নিয়োগ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিলেন; তারেক রহমানও ঠিক সেইভাবে রাষ্ট্র চালাতে চান। তারা বারবার গণতন্ত্রের অপব্যবহার করছে।”নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং তাদের ক্লান্তিহীন সংগ্রামের জন্য শুভকামনা জানানো হয়।

