বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের জীবন-মোড় ঘোরানো ফাইফারের সাহায্যে পাকিস্তানকে ৩৮৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে স্বাগতিকরা পেল ২৭ রানের সূক্ষ্ম লিড।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪১৩ রান। নাজমুল হাসান শান্ত সততা ও ধৈর্যে সেঞ্চুরির নজির রেখে খেলেন—১০১ রানে থামে তার ইনিংস। মুমিনুল হক ৯১ এবং মুশফিকুর রহিম ৭১ রান যোগ করেন। পাকিস্তানের পক্ষে মুহাম্মদ আব্বাস একাজবি বোলিং করলেন এবং বাংলাদেশ দলের পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন।
পাকিস্তানদের রেপ্লাই শুরুটা ছিল শক্তিশালী। অভিষিক্ত ওপেনার আজান দিন শুরু করেন ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে এবং অবিরত ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ১৬৫ বল মোকাবিলা করে ১০৩ রান করে আউট হন, এই ইনিংসে ১৪টি চার রয়েছে।
আজানের উইকেটের পর পাকিস্তান কিছু সময়ের জন্য ধাক্কা খান। তাসকিন আহমেদ ও মিরাজ সঙ্গী ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রুতে; হার ফেরাতে গিয়ে দলের কয়েকটি উইকেট দ্রুত পড়ে যায়। ফজল (১২০ বল, ৬০) সংগ্রহ করেন এবং মিরাজের এক ওভারেই তাইজুলের হাতে ক্যাচও দিয়ে ফেরেন।
পরে সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ষষ্ঠ উইকেটে গড়া ১১৯ রানের জুটি পাকিস্তানকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়। দুজনেই ব্যক্তিগত অর্ধশতক পৌঁছান — রিজওয়ান ৭৯ বল খেলে ৫৯ এবং সালমান আগা ৯৪ বলের মোকাবিলায় ৫৮ রানে থামেন। কিন্তু জুটি ভাঙার পর পাকিস্তানের উইকেট হারানো অব্যাহত ছিল।
মিরাজ শেষপর্যন্ত ম্যাচে বাঁধভাঙা ভূমিকা পালন করেন; মূল্যবান ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে তিনি পাঁচটি উইকেট নেন এবং দলকে শক্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন। পাকিস্তান তাদের ইনিংস ৩৮৬ রানে শেষ করে, ফলে বাংলাদেশ পেল ২৭ রানের লিড।
এই বাঁকপ্রবাহিত ম্যাচে দুই দলের ব্যাটাররা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, আর বোলিং বিভাগেও দুপক্ষই শক্তিশালী লড়াই দেখিয়েছে—অবশেষে তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিকরা সামান্য এগিয়ে থেকে খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখল।

