চায়ের দেশ সিলেটের সবুজ উইকেটে প্রথম দিন থেকেই ব্যাকফুটে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে হারের পর স্লো ওভাররেটের কারণে জরিমানা হয়েও পাকিস্তানের বোলাররা দ্বিতীয় টেস্টে শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করেছে।
লাঞ্চের আগে ৩ উইকেটে ১০১ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঠিক করার ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বিরতির পর ঘুরে এসে মাত্র ১৫ রানের মধ্যে শান্ত, মুশফিক ও মিরাজ—এই তিন নেত্রীর উইকেট হারিয়ে দলের দরজায় হুঙ্কার তোলে পাকিস্তানি পেস আক্রমণ।
নাজমুল হোসেন শান্ত থিতু মেজাজে ২৯ রান করে মোহাম্মদ আব্বাসের এক ডেলিভারিতে অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। শান্তের বিদায়ের পর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ব্যাট হাতে ইনিংসটিকে সামলাতে চান, কিন্তু খুররম শাহজাদের ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পা দিয়ে ২৩ রানে আউট হন; রিভিউ নিলেও ফল বদলায়নি।
তারপরই মেহেদী হাসান মিরাজও ক্রিজে স্থিতিশীল হতে পারেননি। খুররমের বouncer-এ হুক করতে গিয়ে লম্বা ফাইন লেগে হাসান আলীর হাতে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। শান্ত ও মুশফিকের ৪৭ রানের জুটিই যেন ইনিংস মেরামতের লক্ষ্যে কাজ করছিল—কিন্তু সেখানেই মাত্র ১৫ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে টাইগাররা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়ে।
কলিং সেশনটি চারপাশে পাল্টে দেওয়ার আগেই ম্যাচের শুরুতেই সাফল্য পেয়েছে পাকিস্তান—ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই মোহাম্মদ আব্বাস ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়কে শূন্য রানে ফিরিয়ে অতি দ্রুত সূচনা পান। তানজিদ হাসান তামিম অভিষেক ম্যাচে ২৬ রানে কিছু আশার সঞ্চার করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। লাঞ্চের ঠিক আগ মুহূর্তে মুমিনুল হককে (২২) ক্লিন বোল্ড করে খুররম ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন।
প্রথম দিনের প্রথম দুই সেশনেই স্বাগতিকরা ছয়টি উইকেট তুলে নেয়ার মাধ্যমে সিলেট টেস্ট এখন পুরোপুরি শান মাসুদের দলের নিয়ন্ত্রণে। ম্যাচের বাকি সময়ে বাংলাদেশের আশা এখন লোয়ার-অর্ডারের উপর—তারা যদি অবিচল মনোযোগে ব্যাট করে কিছুটা ইনিংস গঠন করতে পারে, তবেই সম্ভব ফিরে আসা।

