যশোরের শার্শায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি রাব্বি ইসলাম (২০)কে পুলিশ ১২ ঘণ্টার মধ্যে আটক করেছে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৫ মে) রাতভর অভিযান চালিয়ে শার্শার ফুলসর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আটক রাব্বি ফুলসর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।
ভুক্তভোগীর মা সোনিয়া বেগম (৩৮) গত ১৪ মে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, কেশবপুর উপজেলার সন্ন্যাসগাছা গ্রামের ওই কিশোরীকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর গভীর রাতে (রাত ২টা ৪৭ মিনিট থেকে রাত ৪টা ৪৫ মিনিট) এবং পরের দিন ভোরেও (রাত ৩টা থেকে ভোর ৫টা) শার্শা থানাধীন স্বরূপদাহ গ্রামের এক বাড়ির পশ্চিম পাশে থাকা শয়নকক্ষে ধর্ষণ করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই কিশোরী মানসিক চাপ ও ভীতি নিয়ে ছিল। সামাজিক লজ্জা ও পারিবারিক চাপের কারণে বিষয়টি দীর্ঘদিন পরও প্রকাশ করা যায়নি। পরে মেয়ের কাছ থেকে পুরো ঘটনা জানতে পেরে তার মা আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরিবর্তে প্রথমে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর শার্শা থানা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে। যশোর জেলা পুলিশের সুপার মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত আসামি গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ ও এক নজরদারি টিমের নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) শেখ আল আমিন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালান। দলটি রাতভর অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ফুলসর এলাকা থেকে রাব্বি ইসলামকে গ্রেফতার করে।
ওসি মারুফ হোসেন বলেন, নারী ও শিশুকে নির্যাতনকারী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ দমন করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে। রাব্বিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

