নিউইয়র্ক টাইমসের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের কর্মকর্তাদের দেওয়া সব উপহার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল বিমানবন্দরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে। নিরাপত্তা শঙ্কার কথা মাথায় রেখেই এসব সামগ্রী বিমানে নেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার (১৬ মে) ট্রাম্প ও তার দলের সদস্যরা বিমানটিতে উঠার আগে চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া বার্নার ফোন, পরিচয়পত্র, ব্যাজ, প্রেস আমন্ত্রণপত্র ও বিভিন্ন স্মারক বর্জ্যকাত্রে ফেলেছিলেন। বিষয়টি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল হোয়াইট হাউস নিরাপত্তা বিভাগ ও সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশনায়।
নিউইয়র্ক পোস্টের হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা এমিলি গডিন সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, সিকিউরিটি কারণে চীনের উৎসের কোনো জিনিস এয়ার ফোর্স ওয়ানে নেওয়া অনুমোদিত ছিল না এবং সেগুলো উঠার আগেই সরিয়ে ফেলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রি গণমাধ্যমগুলো বলছে, এই ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে সম্ভাব্য নজরদারি, ট্র্যাকিং বা সাইবার ও ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা ছিল। এটা এমন এক প্রেক্ষাপট যেখানে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তি ও সাইবার নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা বিদ্যমান।
এ বিষয়ে ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরাও তাদের ওপর ব্যাপকভাবে গুপ্তচরবৃত্তি করি।’ বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-টিপ্পনি শুরু হয়। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক জুর্গেন নাউদিত একভাবে রসিকতা করে মন্তব্য করেন, চীনই একমাত্র দেশ যেখানে ট্রাম্প কোনো উপহার গ্রহণ করেননি।
ঘটনাটি কেবল礼শিষ্টতা নয়; নিরাপত্তা ও প্রত্নতাত্ত্বিক উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে এ ধরনের প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ আজকের জটিল কূটনৈতিক পরিবেশে বিভ্রান্তি ও সতর্কতারই প্রতিফলন।

