চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশে কেনইউয়ান কাউন্টির লিউশেনিউ কয়লাখনিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া গ্যাস বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০ জনে পৌঁছে গেছে। শনিবার (২৩ মে) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি এই তথ্য জানায়। উদ্ধার কাজ এখনও চলছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় ভূগর্ভে মোট ২৪৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। প্রথমদিকে আটজন নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে নিরাপদে ভূপৃষ্ঠে তোলা হয়েছে বলে জানানো হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বিশালভাবে বাড়ে। কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েক ডজন শ্রমিক এখনও আটকা পড়ে আছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটজনক।
সিসিটিভি প্রকাশ করা ফুটেজে দেখা গেছে, হেলমেট পরা উদ্ধারকর্মীরা স্ট্রেচার বহন করছেন এবং ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুল্যান্স ও উদ্ধার যানবাহন দেখা যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল যে খনির ভেতরে বিষাক্ত ও গন্ধহীন কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের মাত্রা “নির্ধারিত সীমা অতিক্রম” করার পর ঘটনার কিছু অংশ ঘটেছে এবং তৎক্ষণিকভাবে কয়েকজন মারা গেছেন।
বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছেন। ইতি মধ্যে এটি গত দশকে চীনে নথিভুক্ত একাধিক মারাত্মক খনি দুর্ঘটনার মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে—২০২৩ সালে উত্তর ইনার মঙ্গোলিয়ার একটি উন্মুক্ত কয়লাখনিতে ধস হলে ৫৩ জন নিহত হয়েছিলেন, আর ২০০৯ সালে হেইলংজিয়াং প্রদেশের একটি খনি বিস্ফোরণে সঙ্খ্যানেকশ জনের বেশি প্রাণহানি ঘটেছিল।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে, উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযানে ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা’ চালাতে এবং দুর্ঘটনার কারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সকল বিভাগের উচিত এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কর্মস্থলের নিরাপত্তা কড়া রাখা। প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংও সময়মতো ও সঠিক তথ্য জানাতে এবং কঠোর জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
কেনইউয়ানের স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে উদ্ধারকর্মীরা তৎপরভাবে কাজ করছেন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এখনও অস্থির এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়ে সময়ে আরও তথ্য জানাবে।